পূর্ব বাংলার প্রতি পাকিস্তানের সীমাহীন বৈষম্যমূলক আচরণের ফলেই পূর্ববাংলায় বিভিন্ন আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল এ বিষয়ে যৌক্তিকতা নিরুপণ।

এইচএসসি 2021 ষষ্ঠ সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। এইচএসসি 2021 সালের মানবিক বিভাগের যে সকল শিক্ষার্থীরা এখনো পর্যন্ত তাদের ষষ্ঠ সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন এবং উত্তর পাননি। অথবা প্রশ্ন পেয়েছেন উত্তর পাননি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। ৬ষ্ঠ সপ্তাহের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্রের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করতে নিচের অংশ ভালভাবে দেখুন।

এইচএসসি 2021 ষষ্ঠ সপ্তাহ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

আমরা বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এসাইনমেন্টের নির্দেশিত চারটি প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। নিচের অংশে অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্নের ছবি এবং পরবর্তীতে তার উত্তর দেওয়া হল।

অ্যাসাইনমেন্ট

পূর্ব বাংলার প্রতি পাকিস্তানের সীমাহীন বৈষম্যমূলক আচরণের ফলেই পূর্ববাংলায় বিভিন্ন আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল এ বিষয়ে যৌক্তিকতা নিরুপণ।

উত্তরঃ

ক)পূর্ব বাংলার প্রতি পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈষম্যঃ

জনসংখ্যার দিক দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তর অংশ হওয়া সত্ত্বেও দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তান কুক্ষিগত করে রাখে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে ক্ষমতার বণ্টন পূর্ব পাকিস্তানের অনুকূল হওয়ায় পশ্চিম পাকিস্তান এক ইউনিট তত্ত্ব নামে এক অভিনব ধারণার সূত্রপাত করে, যেখানে সমগ্র পশ্চিম পাকিস্তান একটি প্রদেশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের ভােটের ভারসাম্য আনা। মজার ব্যাপার হল বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর পাঞ্জাব প্রদেশ প্রস্তাব করে পাকিস্তানে সরাসরি জনসংখ্যার বণ্টনের ভিত্তিতে ভােট অনুষ্ঠিত হােক, কারণ পাঞ্জাবিরা ছিল সিন্ধি, পশতুন, বালুচ বা পাকিস্তানের অন্য যেকোন গােত্রের তুলনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। একেবারে শুরু থেকেই পাকিস্তানে শাসনের নামে ষড়যন্ত্র শুরু হয়, আর এই ষড়যন্ত্রে মূল ভূমিকা পালন করে সামরিক বাহিনী।

যখনই পূর্ব পাকিস্তানের কোন নেতা, যেমন খাজা নাজিমুদ্দিন, মােহাম্মদ আলী অথবা হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচিত হতেন, তখনই পশ্চিম পাকিস্তানীরা কোন কোন অজুহাতে তাদের পদচ্যুত করত। নানারকমটালবাহানা করে জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা দখল করে নেন এবং দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পাকিস্তানে তার স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চালু থাকে। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের এই অনৈতিক ক্ষমতা দখল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েই চলে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত নাটকীয়তার মুখােমুখি হয় যখন ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নিরঙুকশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। দলটি পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ টি আসন হতে ১৬৭ টি আসনে জয়লাভ করে এবং ৩১৩ আসনবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, যা আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের অধিকার প্রদান করে।

কিন্তু নির্বাচনে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাপ্রাপ্ত দল পাকিস্তান। পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো শেখ মুজিবের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরােধিতা করেন। তিনি প্রস্তাব করেন পাকিস্তানের দুই প্রদেশের জন্যে থাকবে দু’জন প্রধানমন্ত্রী। “এক ইউনিট কাঠামাে” নিয়ে ক্ষুব্ধ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে এরূপ অভিনব প্রস্তাব নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার করে। ভুট্টো এমনকি মুজিবের ৬দফা দাবি মেনে নিতেও অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন

খ)পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যেকার প্রশাসনিক ও সামরিক বৈষম্যঃ

প্রশাসনিক বৈষম্য: পাকিস্তান আমলে বৈষম্য | পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানের। বৈষম্য ছিল চরম পর্যায়ে। নিচে তৎকালীন পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে প্রশাসনিক বৈষম্যের একটি চার্ট দেওয়া হলাে:

সামরিক বৈষম্যঃ

জেনারেল ওয়াসিউদ্দিন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে একমাত্র তির তারকা। বাঙালি অফিসার হতে পেরেছিলেন যদিও তার জন্য তাকে ১৯৬৯ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।উনিশ’শ উনসত্তর সালে এ ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা। নেওয়ার পর বাঙালিদের অসন্তোষ সামাল দিতে সেনাবাহিনী এবং সরকারি উঁচু পদে তাদের নিয়ােগ বাড়ানাের প্রতিশ্রুতি দেন।কিন্তু তারপরও ১৯৭০ এ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ৬০০০ অফিসারের মেধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ৩০০ সিংহভাগই নিম্নপদের কর্মকর্তা। উনিশ’শএকাত্তর সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তরুণ বাঙালি অফিসার ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুনিরুজ্জামান। তিনি বিবিসিকে বলেন, “একাকী মনে হতাে। একটি জায়গায় বিশজন অফিসারের মধ্যে হয়তাে একজন থাকতেন বাঙালি। যদি ২০০ ক্যাডেট অ্যাকাডেমিতে ঢুকতাে, তার মধ্যে বড়জোর চার-পাঁচজন থাকতাে বাঙালি। ১৯৭০ এর দিক এসে কিছুটা বেড়েছিল।”

(গ)পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যেকার আর্থসামাজিক বৈষম্য তুলনামূলক চিত্রঃ

একাত্তরপূর্ব পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুই অংশ, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে কেবল যে ১৩০০ মাইলের ভৌগােলিক দূরত্ব ছিল, তা নয়। এই দুই অংশের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবধান এবং বৈষম্যও ছিল প্রকট। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ২৪ বছরে পশ্চিম পাকিস্তানের চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্যের ভারে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে যায়। প্রথমেই আসা যাক GDP (Gross Domestic Product) এর প্রশ্নে। দেশবিভাগের পরপর পূর্ব পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২.২% এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ৩.১%। ১৯৫৪-৫৫ থেকে ১৯৫৯-৬০ সালে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল পূর্ব পাকিস্তানে ১.৬% এবং পশ্চিম পাকিস্তানে ৩.২%। উৎপাদনের উ উপাদানের সুষম বণ্টন না হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তান উৎপাদনে পিছিয়ে পড়ে। এবং জিডিপি কমতে থাকে। যার ফলে দেখা যায় ১৯৪৯-৫০ অর্থবছরে পশ্চিম পাকিস্তানের জিডিপি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের চেয়ে ৮% বেশি, যা ১৯৫৪-৫৫ অর্থবছরে হয়ে যায় ১৯.৬৬% বেশি।

ঘ)পূর্ব বাংলার শিক্ষা সংস্কৃতির উন্নয়নে বৈষম্যঃ

বছরের পর বছর বরাদ্দে এই বৈষম্যের শিকার হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের অবকাঠামাে, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা। ভারত ভাগের সময় পাকিস্তানের দুই অংশে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা ছিল প্রায় সমান। কিন্তু ১৯৭১ সালে এসে পূর্ব পাকিস্তানে ২৪ বছরের আগের তুলনায় প্রাইমারি স্কুলের সংখ্যা কমে যায়। অথচ পশ্চিমে ১৯৬০ এর দশকে এসেই প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা তিনগুণ বেশি হয়ে যায়। উনিশ’শ একান্ন সালে পূর্ব পাকিস্তানে গ্রাজুয়েটের সংখ্যা ছিল ৪১০০০ আর পশ্চিমে ছিল ৪৫০০০।

কিন্তু দশ বছর পর ১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে গ্রাজুয়েট তৈরি হয় ২৮০০০, যেখানে পশ্চিমে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪০০০এ। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেখানে পূর্ব পাকিস্তানে ঐ দশ বছরে ৩২ শতাংশ অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেখানে পূর্ব পাকিস্তানে ঐ দশ বছরে ৩২ শতাংশ কমে গিয়েছিল, পশ্চিমে বেড়েছিল ২১ শতাংশ। সরকারি বৃত্তি, অনুদান প্রধানত পেয়েছে পশ্চিমের শিক্ষার্থীরা,কারণ বিজ্ঞাপন যখন পূর্বে প্রকাশিত হত তখন আবেদনের সময় থাকতাে না।চাকরির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এবং একাধিক গবেষণায় বলা হয়েছে সুযােগ প্রচারে এই দেরি করা হতাে উদ্দেশ্যমূলকভাবে।। অনেক শিক্ষা সংস্কৃতিতে কোনাে প্রকার অর্থ ব্যয় করা হতাে না।

আরও দেখুনঃ

2021 সালের এইচএসসি ভূগোল ২য় পত্র [৬ষ্ঠ সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। HSC 6th Week Geography

এইচএসসি 2021 ইতিহাস [৬ষ্ঠ সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। HSC 2021 Assignment

2021 সালের এইচএসসি সমাজকর্ম ২য় পত্র [৬ষ্ঠ সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। HSC Exam-2021 Assignment

এইচএসসি 2021 সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র [৬ষ্ঠ সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। HSC Sociology 2nd Paper Assignment

Check Also

প্রবাস বন্ধু রচনায় প্রতিফলিত সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয়। ১০ম শ্রেণি [৩য় সপ্তাহ] বাংলা

১০ম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। প্রিয়  ১০ম শ্রেণীর …