হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মক্কী জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী। আলিম 2021 সালের ইসলামের ইতিহাস ১ম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

2021 সালের আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সাধারণ বিভাগের ইসলামের ইতিহাস প্রথম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রদান করা হলো। আপনারা যারা ইতোমধ্যে আলিম 2021 সালের পরীক্ষার্থীদের গ্রুপ সাবজেক্ট এর অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন পেয়েছেন কিন্তু উত্তর পাননি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে নির্দ্বিধায় পূর্ণাঙ্গ উত্তর ডাউনলোড করে নিতে পারেন। যেহেতু আমাদের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকগণ তাদের সার্বিক প্রচেষ্টায় প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টের সঠিক উত্তর প্রদান করে থাকেন। তাই আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে এসাইনমেন্ট সংগ্রহ করে এসাইনমেন্ট এর সর্বোচ্চ নম্বর পেতে পারেন। আলিম 2021 সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ইসলামের ইতিহাস প্রথম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর নিচে দেওয়া হল।

আলিম 2021 ইসলামের ইতিহাস প্রথম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট প্রশ্ন

যেহেতু প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্ট লেখার পূর্বে অবশ্যই অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন ভালোভাবে বুঝে পরবর্তীতে অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে হবে। তাই আমরা প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টের উত্তরের শুরুতে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রশ্ন প্রকাশ করে থাকি। যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন বুঝে পরবর্তীতে অ্যাসাইনমেন্ট ডাউনলোড করে নিতে পারে। আলিম 2021 সালের ইসলামের ইতিহাস প্রথম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন নিচে দেওয়া হল।

অ্যাসাইনমেন্টঃ

হযরত মুহাম্মদ (স.) মক্কী জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীঃ একটি প্রবন্ধ।

শিখনফলঃ

হযরত মুহাম্মদ(স.) এর মক্কী জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী।

নির্দেশনাঃ

  1. মুসলমানদের আবিসিনিয়ায় হিজরত এর কারণ।
  2. আবিসিনিয়ায় হিজরত এর গুরুত্ব।
  3. মিরাজের পরিচয় সংক্ষিপ্ত ঘটনা মিরাজের শিক্ষা ও উদ্দেশ্য।
  4. মিরাজ সম্পর্কে কাফেরদের বিভিন্ন অভিযোগ এবং নিরসন।

আলিম ব্যাচ 2021 ইসলামের ইতিহাস প্রথম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

প্রিয় আলিম 2021 সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সাধারন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। চলুন দেরী না করে ইসলামের ইতিহাস প্রথম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর দেখা যাক। যারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে অ্যাসাইনমেন্ট এর উত্তরে জেপিজি ফাইল অর্থাৎ ছবি ডাউনলোড করবেন। তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা হলো আমাদের ছবির উত্তরের ফন্টের ো কার ভেঙে আসছে। দয়াকরে আসামের লেখার পূর্বে অবশ্যই ঠিক করে নেবেন।

উত্তরঃ

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মক্কী জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী।

ভূমিকাঃ

ইসলামের ইতিহাসে মুসলমানদের মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের ঘটনা এতটা প্রসিদ্ধ যে, এই হিজরতের ঘটনা জানে না এমন কাউকে খুজে পাওয়া হয়ত মুশকিল হবে। কিন্তু এই বিশাল হিজরতের পূর্বে নবুওয়াতের ৫ম বর্ষে মুসলমানরা যে দুইবার আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন তা হয়ত অনেকেরই অজানা। তাই আজকের নিবন্ধে মুসলমানদের আবিসিনিয়ায় হিজরত সম্পর্কে সামান্য আলােকপাত করা হল।

আবিসিনিয়া মুসলমানদের হিজরতের কারণঃ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবীদের উপর অন্যায়অত্যাচারের বিভীষিকাময় ধারা-প্রক্রিয়া শুরু হয় নবুওয়াতের চতুর্থ বর্ষের শেষের দিক থেকে জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা শুরুতে সামান্যই ছিল। কিন্তু দিন যত অতিবাহিত হতে লাগলাে জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা ততই বৃদ্ধি পেতে এইচএস লাগল। শেষ পর্যন্ত অবস্থা এমন হলাে যে, মক্কায় মুসলমানদের টিকে থাকাটাই একরকম অসম্ভব হয়ে উঠলাে। তাই এ বিভীষিকাময় অত্যাচারের কবল থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য তাঁরা বাধ্য হলেন অন্য পথের সন্ধান করলাে। নিম্নে মুসলমানদের আবিসিনিয়ায় হিজরত এর কিছু কারণ উল্লেখ করা হলাে:

কুয়াইশদের ষড়যন্ত্র : ধীরে এইচএস আবিসিনিয়ায় মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে লাগল । মুসলমানদের প্রথম দল রজব মাসে আবিসিনিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন । তারা শাবান ও রমযান মাস সেখানে নিরাপদে অতিবাহিত করেন। শাওয়াল মাসে আবিসিনিয়ায় প্রচারিত হলাে , মক্কার প্রধান এইচএস ব্যক্তিবর্গ ইসলাম গ্রহণ করেছেন | এ সংবাদ শুনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদসহ কতিপয় মুসলমান মক্কায় চলে আসেন , কিন্তু নগরে প্রবেশ করার পূর্বেই তারা জানতে পারলেন , সংবাদটি ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও যড়যন্ত্র । তাদের অনেকেই প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য সংগােপনে মক্কায় প্রবেশ করেন। কিছুসংখ্যক মুসলমান ষড়যন্ত্রের বিষয়টি অনুধাবন করে নগরীর বাইরে থেকেই আবিসিনিয়ায় ফিরে যান , কিন্তু যারা নগরীতে প্রবেশ করেন তারা কাফেরদের অত্যাচার | নির্যাতনের স্টিমরােলারে পিষ্ট হতে লাগলেন।

আবিসিনিয়ায় কুরাইশ দূত : মুসলমানরা কুরাইশদের অত্যাচারের নাগপাশ ছিন্ন করে ভিন্ন দেশে সুখে শান্তিতে আছে ; নির্বিঘ্নে তাদের প্রবর্তিত নতুন দ্বীনের কাজকর্ম পরিচালনা করছে এটা জানতে পেরে হিংসায় কুরাইশ প্রধানরা জ্বলে পুড়ে মরতে লাগল । অবশেষে তারা পরামর্শক্রমে সিন্ধান্ত নিল , আবিসিনিয়ার রাজার নিকট প্রতিনিধি পাঠিয়ে সেখানে হিজরতকারী মুসলমানদের ফেরারি বলে ধরে আনতে হবে | এ কাজে সফলতা অর্জনের জন্য আয়ােজন ও অর্থ ব্যয়ের ত্রুটি হলাে না। যথেষ্ট পরিমাণ উপটৌকন সামগ্রী নিয়ে আবদুল্লাহ ইবনে আবু রবীয়া ও আমর ইবনে আস নামক দুজন কুরাইশ প্রতিনিধি যথাসময়ে আবিসিনিয়ার রাজদরবারে উপস্থিত হয় | তারা প্রথমে রাজ – পারিষদবর্গকে বশীভূত করার চেষ্টা করে | এজন্য বহু মূল্যবান উপটৌকনও তাদের প্রদান করে | তারা পারিষদবর্গকে বলল , দেখুন । আমাদের কতগুলাে নির্বোধ বালক ও যুবক নিজেদের পূর্বপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করেছে , কিন্তু তারা আপনাদের ধর্মেও প্রবেশ না করে একটা অভিনব ধর্মের সৃষ্টি করেছে । তা না আমাদের ধর্ম আর না আপনাদের ধর্ম। এভাবে তারা রাজপারিষদবর্গকে বশ করে ফন্দি ফিকির করল , কিভাবে রাজাকে বশ করা যায় । রাজপারিষদবর্গকে বশীভূত করার পর ষড়যন্ত্রকারীরা এবার নাজ্জাশীকে বশ করার উদ্দেশ্যে তার দরবারে বিভিন্ন রকমের মূল্যবান উপঢৌকন পেশ করে | নাজাশী তাদের আগমনের হেতু জানতে চাইলে তারা বলল , মহারাজ! মক্কার ভ্রান্ত সমাজ আমাদেরকে আপনার নিকট প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করেছেন | মহারাজ | আমাদের দেশের কতিপয় নির্বোধ যুবক নিজেদের বাপদাদার ধর্ম ত্যাগ করেছে , কিন্তু তারা আপনাদের ধর্মেও প্রবেশ না করে এক অভিনব ধর্ম গড়ে নিয়েছে । তা আমাদের ধর্মও নায় আপনাদের ধর্মও নয় | মহারাজ! তাদের পিতাপিতৃব্য , আত্মীয়বর্গ , সন্ত্রান্ত ব্যক্তিবর্গ তাদের ফিরে পাওয়ার প্রার্থনা জানাতে আমাদেরকে আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন | এখানে পলাতকদের কার্যকলাপের বিচার মক্কার সিদ্ধান্ত অসমাজই উত্তমরূপে করতে পারবেন। প্রতিনিধিবর্গের বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে করেছে, পূর্ব ষড়যন্ত্র অনুসারে সভাসদবর্গ একবাক্যে ঠিক করেছে, বলে চিৎকার করে ওঠে | নাজাশী এতে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন , সে কি কথা । আরবরা পার্শ্ববর্তী রান্সন্যবর্গের মধ্যে আমাকে অধিকতর ন্যায়নিষ্ঠ বলে মনে করে | সমস্যায় পড়ে কতগুলাে বিপন্ন লােক আমার রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। তাদের মুখে কোনাে কথা না শুনেই আমি তাদেরকে এদের নিকট সমর্পণ করতে পারি না । এ বলে নাজাশী মুসলমানদের ডেকে ” যীশু যা পাঠান | মুসলমানরা কাজসভায় সমবেত হলে নাজাশী তাদের সম্বােধন করে বললেন , যে ধর্মের জন্য তােমরা নিজেদের পৈতৃক ধর্ম ত্যাগ করে তার বিবরণ আমি জানতে চাই।

প্রতিক্রিয়া: জাফরের যুক্তিপূর্ণ সত্য সুন্দর বক্তৃতা শুনে মুগ্ধ । স্তম্ভিত ও অভিভূত হয়ে নাজাশী তাঁকে প্রশ্ন করেন, ” তােমাদের নবী আল্লাহর কাছ থেকে যে বাণী প্রাপ্ত হয়েছেন , তার কোকো অংশ তােমার স্মরণ আছে কি ? ” জাফরের হাঁ – সূচক উত্তরে নাজাশী তার কতকাংশ পাঠ করতে আদেশ করেন | বিচক্ষণ , প্রত্যুৎপন্নমতিত্বসম্পন্ন মহাত্মা জাফর স্থান – কালপাত্র বিবেচনা করে সূরা মরিয়মের প্রথম থেকে কয়েকটি আয়াত পাঠ করেন | কুরআনের সুমধুর গম্ভীর ভাষা , হযরত ঈসা (আ ) এবং হযরত ইয়াহইয়ার জন্মবৃত্তান্ত ও মহত্ত্ব না , সরল সধ্য যুক্তিতর্ক দ্বারা ইহুদি খ্রিস্টান চরমপন্থিদের অন্ধবিশ্বাসের প্রতিবাদ , ইসলামের উদার সত্যপ্রিয়তা ইত্যাদি বিষয় সভাস্থলে একটা নতুন ভাবের তরঙ্গ বইয়ে দেয়। নাজাশী আত্মসংবরণ করতে পারলেন না , তাঁর দু’ গণ্ড বেয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়ে মুগ্ধ হয় নাজাশী তখন উত্তেজিত স্বরে বললেন । নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন , তা তােমাদের বাণীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উভয় কন্তু এক ও অভিন্ন | একই ধারা থেকে এতদুভয় প্রত্যাগত । অতঃপর কুরাইশ নেতাদের লক্ষ্য করে বললেন, যাও, তােমাদের অনুরােধ আমি রাখতে পারলাম না | তাদের ন্যায় সত্যসুন্দর , চিরসৎ । ন্যায়নিষ্ঠ মানুষদের আমি কিছুতেই তােমাদের হাতে সেদিতে পারি না ।

দ্বিতীয় যড়যন্ত্র : সকল যড়যন্ত্র ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে যাচ্ছে দেখে কুরাইশ প্রতিনিধিরা লজ্জায় ক্ষোভে একেবারে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ে | আমর ইবনে আস তখন ভেবেচিন্তে আর এক দুরভিসন্ধি বের করে | সে তার সঙ্গীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল- ” দেখ , মুসলমানরা ঈসা (আ)-কে মানব তনয় ও আল্লাহর দাস বলে থাকে। খ্রিস্টানরা কিন্তু তাকে ঈশ্বর বা ঈশ্বরপুত্র বলেই বিশ্বাস করে | কাল সকালে রাজসভায় উপস্থিত হয়ে এ মন্ত্র খাটাতে হবে | এ পদ্ধতিটি যদি রাজার কানে ঠিকমতাে ঢােকানাে যায় তবে তাতে অনেক কাজ হতে পারে | এতে হয় তাে মুসলমানরা এখান থেকে বিতাড়িত হবে | ” পরামর্শ অনুসারে সকালে উঠেই তারা রাজসভায় উপস্থিত হয়ে নিজেদের বক্তব্য রাজার কাছে তুলে ধরে । রাজা পূর্ববৎ মুসলমানদের দরবারে ডেকে পাঠান | মুসলমানগণ রাজদূতের মুখে সৰ সংবাদ জেনে নতুন একটা বিপদের আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েন , কিন্তু ধন্য তাদের মনের বল , ধন্য তাদের ঈমানের তেজ! তারা পূর্বের ন্যায়

স্থির করলেন , ঈসা (আ) সম্পর্কে আমরা যা জানি , এ সম্পর্কে রাসূল (স) আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন , নির্ভয়ে তা ব্যক্ত করে দিতে হবে | সত্য গােপন করা ঠিক হবে না। আল্লাহ যদি বিজয় দেন তাহলে সত্যের ওপরই দেবেন , মিথ্যার ওপর নয় | যদি সত্য বলায় কোনাে ঝড়ঝাপটা আসে , তাও মাথা পেতে নিতে হবে , তবুও মিথ্যা বলা যাবে না। পর দিন মুসলমানরা দরবারে এসে রাজার অপেক্ষায় থাকে | রাজা তাদের কাছে। ঈসা (আ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে জাফর দৃঢ়কণ্ঠে অথচ প্রভাবে উত্তর ৱাজন | আমাদের নবীর শিক্ষানুসারে আমরা তাকে আল্লাহর বান্দা মানুষ , সতী সাধ্বী মরিয়মের পুত্র , রাসূল , সাধু – সন ও মহাপুরুষ বলে বিশ্বাস করি।” জাফৱেৱ কথা শেষ হতে না হতেই নাজাশী দৃপ্ত কণ্ঠে ঘােষণা করলেন , ” ঠিক কথা , অতি সমীচীন কথা | ঈসাও এর অতিরিক্ত কিছুই বলেননি।” এরপর রাজা নাজাশী কুরাইশ প্রতিনিধিদ্বয়কে লক্ষ্য করে বললেন ,” তােমরা তােমাদের নিয়ে আসা উপটৌকনাদি সহকারে আমার রাজ্য থেকে বের হয়ে যাও | তােমরা চলে যাও , আমার সম্মুখ থেকে দূর হও , তােমরা আমার রাজ্যের অকল্যাণ । ”

আবিসিনিয়ায় হিজরতের গুরুত্বঃ

মুসলমানদের আবিসিনিয়া হিজরতের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম | এ হিজরতের ফলে ইসলাম ধর্ম বের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বে পরিচিতি লাভের সুযাগে আসে | আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজ্জাশী ইসলাম ধর্মের সত্যতা ও মাহাত্ম্য বুতে পারেন | তিনি নিপীড়িত মুসলমানদের আশ্রয় দান করে মহানুভবতার পরিচয় দেন। আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী নও – মুসলিমরা শখায় না হলেও এ সময় তাদের ভূমিকা ইসলামের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১, কোনাে অবস্থাতেই মুহাম্মদ (স) -এর আনীত দ্বীন পরিহার না করে মুসলমানগণ সর্বপ্রকার ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত

২, তাদের যকা থেকে আবিসিনিয়ায় হিজরত কুরাইশদের মনে এ ধারণাই জনা দিয়েছিল ।

৩, মুসলমানগণ ইসলামের জন্য কষ্ট স্বীকার ও নির্বাসন আশীর্বাদ মনে করে | ও তারা এও বুঝতে পারে , কুরাইশদের অত্যাচার নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তাদের একটি নিরাপদ স্থান আছে। প্রয়ােজনে সেখানে তারা আশ্রয় নিতে পারবে ।

৪, আবিসিনিয়ায় হিজরত পরিশেষে বৃহত্তর হিজরতের পূর্বাভাসরূপে গণ্য হয়েছিল ।

মিরাজের পরিচয়, সংক্ষিপ্ত ঘটনা, মিরাজের শিক্ষা উদ্দেশ্যঃ

মিরাজ এর পরিচয়ঃ ইসলাম ধর্মমতে লাইলাতুল মেরাজ’ বা মেরাজের রাত, যা সচরাচর শবে মেরাজ হিসাবে আখ্যায়িত হয়, হচ্ছে যে রাতে ইসলামের নবী। মুহাম্মদ (সা.) ঐশ্বরিক উপায়ে উর্ধ্বাকাশে আরােহণ করেছিলেন এবং স্রষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেন। ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামায, মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরজ) করা হয় এবং এই রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায মুসলমানদের জন্য নিয়ে আসেন নবী মুহাম্মদ (সা:)।

মিরাজের সংক্ষিপ্ত ঘটনা: ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী মুহাম্মাদের (সা:) নবুওয়াত প্রকাশের একাদশ বৎসরের (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) প্রথমে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি বােরাক নামক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে উর্ধ্বলােকে গমন করেন। উর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহ’র সাক্ষাৎ লাভ করেন। আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে তার প্রিয় উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে আসেন| এছাড়াও জান্নাত জাহান্নাম সহ সকল কিছু দর্শন করেন। এই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল তার সফরসঙ্গী ছিলেন| কুরআন শরিফের সুরা বনি ইসরাঈল এর প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে : “পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”[সূরা বনি ইসরাইল আয়াত-১]

মিরাজের শিক্ষা:

১. আল্লাহর একত্ব ও সার্বভৌমত্ব – মানা : মিরাজের প্রধান শিক্ষা হলা: আল্লাহ রাব্বল আলামীনের একত্ব ও সার্বভৌমত্ব | স্বীকৃতি | সমগ্র বিশ্বের সৃষ্টি , স্থায়িত্ব , সংরক্ষণ , ক্রমবিকাশ এবং ক্রমান্নেতি একমাত্র আল্লাহর দান | যিনি অসীম ছ বিচক্ষণতার অধিকারী , যার ইচ্ছা ও আদেশ নিরঙ্কুশভাবে (ABSOLUTELY) আসমান ও যমীনের প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু – পরম মধ্যে সক্রিয় রয়েছে , যার হাতে রয়েছে জীবিকার চাবিকাঠি , জীবন – মৃত্যুর রশি এবং যিনি সমস্ত শক্তি ও ক্ষমতার উৎস | মন আনুগত্য , দাসত্ব, স্তব – স্তুতি একমাত্র আল্লাহর প্রাপ্য ; এ ক্ষেত্রে অন্য কারাে ইবাদত না করা , তার সাথে কাউকে শরীক না | অন্যকারাে সার্বভৌমত্ব না মানা | বান্দাদের কাছে আল্লাহর ন্যূনতম চাওয়া হচ্ছে তারা আল্লাহ ছাড়া আর কারাে গােলামী ক | জীবনের সবক্ষেত্রে তারই আইন মেনে চলবে , তাঁর সার্বভৌমত্বে অন্য কারাে বিন্দুমাত্র শরীক করবে না । মূলতঃ এই মিরাজের প্রধান ও প্রথম শিক্ষা |

২. পিতামাতার প্রতি উত্তম ব্যবহার ও ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার মৌল একক ব্যক্তি | ব্যক্তি পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে | ব্যক্তির প্রাথমিক সংগঠন পরিবার | আবার সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের মৌল ইউনিট হলাে পরিবার | তাই মিরাজের দ্বিতীয় শিক্ষায় তামান্দুনিক বিষয়ে পারিবারিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরােপ করা হয়েছে।

৩. ধন – সম্পদের অপচয় রােধ করা : মিরাজের অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে অর্থ ও সম্পদের অপচয় করা চলবে না। যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের সমতুল্য।

৪. সম্পদের বন্টন ব্যবস্থা: মিরাজের এর আরেকটি শিক্ষা হচ্ছে রিযিক বন্টনের যে স্বাভাবিক নিয়ম পদ্ধতি আধ্যাহ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন মানুষ যেন তাতে হস্তক্ষেপ না করে।

৫. দারিত্রের জন্য সন্তান হত্যা : মিরাজের অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে দারিদ্র্যের ভয়ে , খাদ্যাভাব ও সাংসারিক অভাব – অনটনের আশঙ্কায় সন্তান হত্যা না করা। বর্তমান বংশধরদের জীবিকার ব্যবস্থাপনা আল্লাহ যেভাবে করছেন । ভবিষ্যৎ বংশধরগণের জন্যও ঠিক তেমনি করবেন।

৬. ব্যভিচার ও অশ্লীলতা বর্জন করা : মিরাজের প্রধান শিক্ষা হচ্ছে উন্নত ও নৈতিক চরিত্রবান হওয়া , ব্যভিচার অত্যন্ত গর্হিত কাজ , তাই ব্যভিচার থেকে নিজে বিরত থাকতে হবে এবং সমাজ থেকে এটিকে মূলােৎপাটন করতে হবে | যৌন উত্তেজক সকল প্রকার সম্ভাব্য পথ ও উপায় উপাদান বিলুপ্ত করতে হবে।

৭. অন্যায়ভাবে হত্যা বন্ধকরণ : মানুষের জীবন আল্লাহর নিকট অত্যন্ত পবিত্র | তাই অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা হারাম | তাই , শুধু আল্লাহ প্রদেয় নির্দিষ্ট বিধান ব্যতিরেকে অন্য কোনাে কারণে কারাে রক্তপাত করা চলবে না। ৭

৮, এতিম – অসহায়দের সম্পদ ভক্ষণ: এতিমের ধন – সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রাপ্ত বয়স্ক মুমিনদের কর্তব্য। যতদিন পর্যন্ত না তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে | ততদিন তাদের অধিকার অক্ষুন্ন রাখার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে ।

 মিরাজের উদ্দেশ্য:  হুজুর (সা.) এর চাচা আবু তালেব ও স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) ইন্তেকালের পর তাঁর উপরে অত্যাচারের মাত্রা বহুগুণে বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় আল্লাহর নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ করিয়ে রসূল (সা.) এর মনােবল চাঙ্গা করাটা ছিল মেরাজের অন্যতম উদ্দেশ্য। এব্যপারে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। (সূরা বানি ইসরাইল : ১)

মেরাজ সম্পর্কে কাফেরদের বিভিন্ন অভিযোগ নিরসন:

১, সকল নবী এবং আসমনি কিতাবসমূহ , এ কথায় একমত সে কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে | আকাশ বিদীর্ণ হয়ে টুকরাে যাবে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন একথা সুস্পষ্ট আম্বিয়ায়ে কেরামের কোনাে অসম্ভব বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পােষণ করা আদৌ সসম্ভব নয় | প্রবীণ দার্শনিকগণ যারা আকাশের উপরে গমণ করা অসম্ভব বলে প্রমাণাদি পেশ করেছেন । মুসলিম দার্শনিকাণ এর যথার্থ জবাব দিয়েছেন ।

২. ইহুদিদের ধর্ম মতে আম্বিয়ায়ে কেরাম স্ব – শরীরে জীবিত অবস্থায় আসমানে অবস্থান করা এবং খ্রিস্টানদের হয়রত ইশা (আ) এর জীবিত অবস্থায় আসমানে গমন পূর্বক তথায় অবস্থান করা এবং শেষ যামানায় আসমান থেকে অবতরণ করা শীয় ঠিক এভাবেই আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (স) – স্ব – শরীরে আসমানে গমণ করা এবং পুনরায় আসমান থেকেই প্রত্যাবর্তন করা কুরআন , হাদীস , সাহাবী ও তাবেঈদের ইজমার মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে স্বীকৃত যদি আসমানে গমণ করা যুক্তিক না হতাে তবে সাহাবী, তাবেয়ী কখনাে ঐকমত্য পােষণ করতে না।

৩ আধুনিক দার্শনিকগণ যে অসিমানের অতিত্ব অস্বীকার করে , তা অসিমানের অস্তিত্ব না থাকার প্রমাণ হতে পারে না। তবে জ্ঞানিরা এ ব্যপারে একমত যে, কোন বস্ত দৃষ্টিতে না আসা বা সাব্যস্ত না হওয়া তা অস্তিত্বহীন হওয়ার প্রমাণ হতে পারে না অন্যথায় এরূপ হাজার হাদীস, জিনিসের অস্বীকার করা আবশ্যক হবে , যা আমাদের চিন্তা – ভাবনা এবং জ্ঞান – বুদ্ধিরও উর্ধে। মনীষীবৃন্দ একথার ওপরও একমত , কোনাে জিনিস সম্পর্কে অজ্ঞতা বা না জানা অন্যের ওপর প্রমাণ বহন করে না|

৪. আধুনিক বৈজ্ঞানিকগণ তাদের আবিষ্কারের ক্ষেত্রে বারবার ঘােষণা দিচ্ছে , দর্শন এবং বিজ্ঞানের মাধ্যমে বর্তমান যুগ পর্যন্ত যা কিছু আবিষ্কার হয়েছে তা খুবই স্বল্প । ভবিষ্যতে যেসব আবিষ্কারের আশা করা যাচ্ছে এগুলাে বর্তমান যুগের আবিষ্কারে হাজার একমত, গুণ উর্থে। এমনকি এ পর্যন্ত তারা ঘােষণা করেছে , মানুষ অদূর ভবিষ্যতে গ্রহ ও নক্ষত্রে পৌছতে সক্ষম হয় কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় , আমাদের সভ্য ভাইয়েরা যারা পাশ্চাত্য জ্ঞানের ধারক ও বাহক , তারা বিভিন্ন আবিষ্কারের অত্যন্ত আনন্দের সাথে শ্রবণ করেন এবং অন্যকেও শুনান ; কিন্তু যখন তারা নবী করীম (স) -এর মিরাজের সংবাদ শ্রবণ করে তখন তাদের অন্তরে বিভিন্ন সন্দেহ – সংশয়ের সৃষ্টি হয় | তারা পাশ্চাত্যের সংবাদ নির্ধিধায় সত্য মনে করে , কিন্তু আল্লাহ তায়ালার ওহী বা সংবাদের ওপর বিভিন্ন সন্দেহ – সংশয়ের অবতারণা করে। তারণা করে ।

৫. বর্তমান যুগে এমন লিফটও আবিষ্কৃত হয়েছে: বৈদ্যুতিক সুইচ দেওয়ার সাথে একমত, এক মিনিটে অট্রালিকার শত তলার একেবারে উপরের তলায় পৌছে দেয় | মানুষ যদি অতদূর করতে সক্ষম হয় তবে অনন্ত – অসীম কুদরতের মালিক তায়ালা কেন তার হাবীবকে ঐ খাদোয়ী লিফটের মাধ্যমে মিরাজ নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন না। ৬. হাজার একমত, মণ ওজনের বিমানসমূহ আকাশের দিগন্তে উড্ডয়ন করা এবং এক ঘণ্টার মধ্যে হাজার একমত, মাইল অতিক্রম করার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতেই বিদ্যমান | অতঃপর একজন রাসূলের উর্ধ্বাকাশে গমণের ব্যাপারে কেন এত চিন্তা – ভাবনায় কেন এত দ্বিধা সন্দেহ?

সকল পোস্টের আপডেট পেতে ‍নিচের ফেসবুক আইকনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে জয়েন করুন।

Check Also

বাংলাদেশের লােকশিল্পের বিলুপ্তির কারণ এবং লােকশিল্প সংরক্ষণের উপায়।

৮ম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। প্রিয়  ৮ম শ্রেণীর …