একজন মুসলিম হিসেবে মহান আল্লাহর বিধান মেনে চলার পদ্ধতি। ৭ম শ্রেণী ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা [১৪ তম সপ্তাহ]

৭ম শ্রেণী [14 তম সপ্তাহ] নির্ধারিত ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝার সুবিধার্থে আমরা অত্যন্ত সহজ সরল ও সাবলীল ভাষায় অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর তৈরি করেছি। ফলে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই আমাদের ওয়েবসাইট থেকে সপ্তম শ্রেণীর 14 তম সপ্তাহের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট এর উত্তর সংগ্রহ করেছেন মেন তৈরি করে নিতে পারবেন। সপ্তম শ্রেণীর 14 তম সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট এর উত্তর ডাউনলোড করতে নিচের অংশ ভালভাবে পড়ুন।

৭ম শ্রেণি ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা [১৪ তম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর 2021

বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত সপ্তম শ্রেণীর 14 তম সপ্তাহে নির্ধারিত ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট এর প্রশ্নে উল্লেখিত নির্দেশক অংশের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে আমরা এক পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করেছি। নিচে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন এবং তার নিচে উত্তর দেওয়া হল।

অ্যাসাইনমেন্ট বা কাজঃ

  • নিবন্ধ লিখন: (সর্বোচ্চ ২৫০ শব্দ)।
  • বিষয়বস্তু: একজন মুসলিম হিসেবে মহান আল্লাহর বিধান মেনে চলার পদ্ধতি।
  • উৎস: সূরা বাকারার ৫ম রুকু-র নির্দেশনা অনুসরণ।

উত্তরঃ

প্রারম্ভীকঃ রাসূলুল্লাহ (স.) এর মদিনা জীবনের সূচনাতে সূরা বাকারা নাযিল হয়। এ সূরাকে মাদানী সূরা বলা হয়। এ সূরা কুরআনের দীর্ঘতম সূরা। সূরা বাকারায় ইসলামের বেশ কিছু মৌলিক বিষয় আলােচিত হয়েছে। পৃথিবীতে তাওহীদের একমাত্র ধারক-বাহক জাতি হিসেবে মুসলমানদের চলার দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এ সূরায়। নিম্নে সুরা বাকারার আলােকে একজন মুসলিম হিসেবে মহান আল্লাহর বিধান মেনে চলার পদ্ধতি তথা একজন মুমিন-মুত্তাকীর বৈশিষ্ট্য আলােকপাত করা হলাে।

(১) মুমিন-মুত্তাকীদের গায়েব বা অদৃশ্যে বিশ্বাসী হতে হবেঃ

মুমিন-মুত্তাকীর প্রথম গুণটি হল তারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে। ইসলামী আকীদা-বিশ্বাস ও প্রত্যয়-সংস্কৃতি এবং আদর্শের মৌলিক বিষয় এটাই। এ বিশ্বাসের মূল কথা হচ্ছে : الذين يؤمنون بالغيب “তারা গায়েবে বা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে।” এসব অদৃশ্যের বিষয়াবলির মধ্যে আছে- মহান প্রভু আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি, ফেরেশতা, অহী, আখিরাত, বেহেশত-দোযখ ইত্যাদি। অদৃশ্যে বিশ্বাস মুমিন-মুস্তাকী হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ।বস্তুবাদীরা এ অদৃশ্য বিশ্বাস না করে ধ্বংসের মধ্যে নিপতিত হয়েছে।

(২) একজন মুসলিমকে সালাত কায়েম করতে হবেঃ

সালাত প্রতিষ্ঠা করা মুমিন-মুত্তাকীর দ্বিতীয় গুণ-বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ বলেন- ; “তারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে।” সালাতের মধ্য দিয়ে তারা এক আল্লাহর ইবাদাত ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। শুধু গায়েবে বিশ্বাস করে চুপচাপ বসে থেকে জপ করলেই মুত্তাকী হওয়া যায় না। আনুগত্যের বাস্তব নমুনা দেখাতে হবে সালাতের মাধ্যমে। দিবা-রাত্র পাঁচবার ফরয সালাত ও সিজদার মাধ্যমে তারা শিরক থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তােলে।

(৩) একজন মুসলিমকে আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে ব্যয় করতে হবেঃ

মুমিন-মুস্তাকীর তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- 333; “তারা আমার (আল্লাহর) দেওয়া রিযিক থেকে ব্যয় করে।”যা কিছু ধন সম্পদ আছে তা সবই আল্লাহর দান। এর প্রকৃত মালিক আল্লাহ তা’আলা। এ বিশ্বাস অর্থের মােহ থেকে মুক্ত করে। কাজেই মুমিন-মুত্তাকী অর্থের পূজারী হয় না। তার ধন-সম্পদে আল্লাহ ও অন্যান্য মানুষের যে অংশ ও অধিকার আছে, তা-সে রীতিমত ব্যয় করে।

(৪) একজন মুসলিমকে আসমানী কিতাবে বিশ্বাস করতে হবেঃ

মুমিন-মুত্তাকীদের চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- “তারা হযরত | মুহাম্মদ (স)-এর প্রতি নাযিল করা কিতাবের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাঁর পূর্ববর্তী অন্যান্য নবীদের প্রতি | নাযিলকৃত কিতাবসমূহের উপর ঈমান রাখে।” মানব জাতির পথ নির্দেশনার জন্য আল্লাহ তাআলা যে সব আসমানী কিতাব যুগেযুগে নাযিল করেছেন- মুমিনমুত্তাকীগণ তা স্বীকার করে। তারা বিশ্বাস করে, মানব জাতির সূচনা থেকে যে সব আসমানী কিতাব মানুষের হিদায়াতের জন্যে নাযিল হয়েছে; তা সবই একই উৎস থেকে এসেছে। আর হযরত মুহাম্মদ (স)-এর উপর যে আল-কুরআন নাযিল হয়েছে- তা কিয়ামত পর্যন্ত মুক্তির পথ দেখাবে। এ বিশ্বাসের ফলে আদি থেকে শেষ নবী পর্যন্ত সকল নবী-রাসূলের মধ্যে ঐক্যের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। তাই তাদের মধ্যে ধর্মের ব্যাপারে গোঁড়ামি নেই।

৫) একজন মুসলিমকে আখিরাত জীবনের প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাসী হতে হবেঃ

মুমিন-মুত্তাকীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- *558“তারা পরকালের জীবনে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।” এ বিশ্বাস কর্মকে কর্মফলের সাথে এবং সূচনাকে পরিণতির সাথে যুক্ত করে। এ বিশ্বাস মানুষকে এ চেতনা দান করে যে, পৃথিবীতে তার সৃষ্টি, তার কর্মকাণ্ড, তৎপরতা, বিশ্বাস, জীবনাচার কিছুই বৃথা যাবে না। সে নিরর্থক সৃষ্টি নয়। তাকে তার কর্মের জন্যে মহাবিচারকের দরবারে হাযির হতে হবে। ভাল কাজের জন্যে পুরস্কার এবং মন্দ কাজের জন্যে শাস্তি পাবে। এরূপ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী মুমিন-মুত্তাকীর জীবনই সাফল্যময় হবে ইহজগতে ও পরজগতে।

পরিশেষঃ মহান আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনকে বিশ্বমানবতার পথ নির্দেশনা হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। সূরা আল বাকারার শুরুতে বলা হয়েছে এটা একটা হেদায়াত ও পথ নির্দেশনা গ্রন্থ। আর এ গ্রন্থ যদিও মানবজাতির প্রত্যেক সদস্যের জন্যই হেদায়েত গ্রন্থ, তবুও যারা হেদায়েত পাবার জন্য নিজেরা অগ্রসর হবে না, তাদেরকে এই গ্রন্থ হেদায়েত করতে পারবে না। এ সূরার আলােকে একজন মুসলিম উপরােক্ত বিষয়গুলাে মেনে চললে এবং পরকালীন জীবনে মুক্তি পাবে।

সকল পোস্টের আপডেট পেতে ‍নিচের ফেসবুক আইকনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে জয়েন করুন।

Check Also

তােমার পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টিতে যে অনুজীবগুলােকে দায়ী মনে করছ,…..

সপ্তম শ্রেণি 2022 শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্টের নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর …