ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয়দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন ফলাফল ১৯৭১ ও বর্তমান বাংলাদেশ বিশ্লেষণপূর্বক উপস্থাপন।

এইচএসসি 2022 পৌরনীতি ও সুশাসন ৭ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ এবং নির্ভুল উত্তর প্রকাশ করা হলো। আমরা ইতিমধ্যে আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এইচএসসি 2022 সালের পৌরনীতি ও সুশাসন সপ্তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন প্রকাশ করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সপ্তম সপ্তাহের নির্ধারিত পৌরনীতি ও সুশাসন অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করলাম। পূর্ণাঙ্গ উত্তর পেতে নিচের অংশ ভালভাবে পড়ুন।

এইচএসসি 2022 পৌরনীতি ও সুশাসন ৭ম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন

ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝার সুবিধার্থে পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র অর্থাৎ সপ্তম সপ্তাহের নির্ধারিত অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন পুনরায় দেওয়া হল। যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রশ্নের নং অনুযায়ী আমাদের ওয়েবসাইট থেকে উত্তর ডাউনলোড করে নিতে পারে।

প্রশ্নঃ

অ্যাসাইনমেন্টঃ ০৪

দ্বিতীয় অধ্যায়: পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭১৯৭১)

অ্যাসাইনমেন্টঃ

ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয়দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন ফলাফল ১৯৭১ ও বর্তমান বাংলাদেশবিশ্লেষণপূর্বক উপস্থাপন।

নির্দেশনাঃ

  1. ভাষা আন্দোলন, ৫৪এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন।
  2. ৬ দফার গুরুত্ব, আগরতলা মামলা
  3. ৬৯এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, অসহযােগ আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু

এইচএসসি 2022 ৭ম সপ্তাহ পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র এসাইনমেন্ট উত্তর

প্রিয় এইচএসসি 2022 সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। চলুন আপনাদের জন্য প্রকাশিত সপ্তম সপ্তাহের নির্ধারিত পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেখে নেয়া যাক। নিচে সপ্তম সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত পৌরনীতি ও সুশাসন অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর দেওয়া হল।

উত্তরঃ

ভূমিকাঃ পাকিস্তানীরা সর্বপ্রথম যে বিষয়টার উপর আঘাত হানে তা হলাে ভাষা। আর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটেছিল তা এখনও চলমান। ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মায়ের ভাষা বাংলা রক্ষার্থে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী যে আন্দোলন সংঘটিত হয় তাই ভাষা আন্দোলন। আর এই ভাষা আন্দোলনই ছিল বাঙালিদের জাতীয় বিকাশের মুল ভিত্তি।

ভাষা আন্দোলনের কারণঃ

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভ করে। এর কিছুদিন পরেই দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রধান। প্রবক্তা জিন্নাহ নিজে গণপরিষদে বলেন, মুসলিম, হিন্দু-খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ কিংবা পাঞ্জাবি-বাঙালি-মিল্কি-পাখতুন পরিচয় ভুলে সকলকেই এখন এক পাকিস্তানি হতে হবে। কিন্তু সেই পাকিস্তানের ঐক্যসূত্র তৈরি করতে গিয়ে তারা ইসলাম ও উর্দুভাষার উপর জোর দেয় আর অন্যান্য ধর্ম ও ভাষা-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। এমনকি বাংলাভাষার সমৃদ্ধ সাহিত্য, রবীন্দ্রনাথ-মাইকেল ,বঙ্কিমের মতাে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিকদের প্রতি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বৈরি অবস্থান গ্রহণ করে। অথচ বাংলা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হওয়া ছিল যুক্তিযুক্ত। পাকিস্তানের তত্ত্বকালীন মােট জনসংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৯০ লক্ষ এর মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লক্ষ বাঙালি। বাকি আড়াই কোটি মানুষের মাতৃভাষাও উর্দু ছিল না। তাই জিন্নাহর এই অযৌক্তিক দাবির কারণে ভাষা আন্দোলন হয়।

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনঃ

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পরিষদের ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে পূর্ব বাংলার ৪ টি দল মিলে যুক্তফ্রন্ট নামীয় একটি সমন্বিত বিরােধী রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়লাভ করে

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের কারণঃ

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শামক দল মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনাে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে। স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৫১ সালে পূর্ব বাংলার আইনসভার যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল তা ১৯৫৪ সালের আগে হতে পারে নি।বিভিন্ন অজুহাতে কয়েকবার সাধারণ নির্বাচন স্থগিতকরণ ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের ক্ষমতালােভী অভিসন্ধি ও সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রমাণ দেয়। ফলে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শােচনীয় পরাজয় ঘটানাের লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর আওয়ামী লীগ যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে এবং জয়ী হয়।

৬ দফা দাবিঃ

দফা ৬  দাবির প্রবক্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি পূর্ব বাংলার মানুষের প্রতি পাকিস্তানি সরকারের বৈষম্য ও অবহেলার জন্য ৬ দফা দাবি পেশ করেন। সেগুলাে হলাে ১.পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাধীনে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার হবে। সর্বজনীন ভােটাধিকারের ভিত্তিতে প্রাপ্ত বয়স্কদের ভােটে নির্বাচন অনুষ্ঠান। ২. কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে মাত্র দুটি বিষয় থাকবে, প্রতিরক্ষাও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যান্য সকল বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলাের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। ৩. সারাদেশে হয় অবাধে বিনিয়ােগযােগ্যদুধরনের মুদ্রা, না হয় বিশেষ | শর্ত সাপেক্ষে একই ধরনের মুদ্রা প্রচলন । ৪. সকল প্রকার কর ধার্য করার ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের | হাতে। আঞ্চলিক সরকারের আদায়কৃত রাজস্বের একটা নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। ৫. অঙ্গরাজ্যগুলাে নিজেদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার মালিক হবে, এর নির্ধারিত অংশ তারা কেন্দ্রকে দেবে। ৬. অঙ্গরাজ্যগুলােকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আধা সামরিক বাহিনী গঠন। চন করার ক্ষম দিতে হবে। ক্ষমতা দিতে।

৬ দফার গুরুত্ব :

৬ দফা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। আইয়ুব সরকার একে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে গভীরভাবে উজ্জীবিত করে। এটি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ৬ দফা কর্মসূচি ঘােষণার জন্য পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং পাকিস্তানের এক নম্বর শত্রু বলে চিহ্নিত করে। পাকিস্তান সরকার ৬ দফা গ্রহণ না করে দমন-পীড়ন শুরু করলে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাঃ

পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মরত ও প্রাক্তন সদস্য এবং উধর্বতন সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করে তা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযােগ ছিল যে, তারা ভারত সরকারের সহায়তায় সশস্ত্র অভুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে, পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা শহরে ভারতীয় পক্ষ ও আসামি পক্ষদের মধ্যে এ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ থাকায় একে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়। বাংলাদেশের। স্বাধীনতার ইতিহাসে এ মামলা এবং এর পাকিস্তানের জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার অচিরেই মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

১৯৬৯ সালের গণঅভুত্থানঃ

পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বতঃসূফর্ত অংশগ্রহণে ১৯৬৯ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন সংঘটিত হয়। ইতিহাসে এটি উনসত্তরের গণঅভুত্থান নামে পরিচিত। এটি বিপ্লবাত্মক রূপ পরিগ্রহ করে। সকল গণতান্ত্রিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও মানুষ যার যার অবস্থান থেকে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়।১৯৬৯ সালের ২০শে জানুয়ারি ঢাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র আসাদুজামান (আসাদ) নিহত ত হয়। আসাদ নিহ নিহত হওয়ার পর এই আন্দোলন অভুত্থানে পরিণত হয়।

১৯৬৯ সালের গণঅভুত্থানের ফলাফলঃ

১৯৬৯ সালের গণঅভুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর পূর্বে তিনি ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা তুলে নেন। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে। গণঅভূত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রয়ােজনীয়তা তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৭০ এর নির্বাচন এবং১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৬৯ এর গণঅত্যুত্থানের ব্যাপক প্রভাব ছিল। তাই I যায় যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শে ১৯৬৯ সালের গণঅভুত্থানের ফলাফল অতি তাৎপর্যপূর্ণ।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের পটভূমিঃ

৭০ সালের নির্বাচনের পটভূমি শুরু হয় তখনই যখন পাকিস্তানীরা ১৯৫২ সালে সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬% এরও বেশি লােকের মুখের ভাষা ছিল বাংলা থাকার পরেও উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘােষণা দেন। এছাড়াও ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪ দলের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং মুসলিম লীগের শােচনীয় পরাজয় ঘটে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করলেও পাকিস্তান শাসকবর্গ চক্রান্ত করে তা ভেঙে দেয়। এই প্রেক্ষাপট বাঙালির মনে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দেয়, যা ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পথকে প্রশস্থ করে। পশ্চিম পাকিস্তান সামরিক শাসকদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক শােষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব ছয় দফা কর্মসূচি ঘােষণা করেন। যার প্রতিফলন ঘটে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে। এছাড়াও আগরতলা মামলা, আইয়ুব খানের পতন এবং সর্বপরি নিজের অধিকার আদায়ে যে জাতীয় ক্ষমতার বিকল্প নেই:এসব প্রেক্ষাপটে আলােকেই ১৯৭০ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফলঃ

১৯৭০ সালের নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আমনের মধ্যে ১৬৭টি আসন ৭টি মহিলা আসনসহ লাভ করে। বাকি দুটি আসনের মধ্যে ১টি লাভ করে পিড়িপি নেতা নুরুল আমীন এবং অপর আসনটি লাভকরেন নির্দলীয় প্রার্থী রাজা ত্রিদিব রায় চৌধুরী। জাতীয় পরিষদের ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান। এতে পশ্চিম পাকস্তানী শাসক চক্র বিপাকে পড়ে যায়।
পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ জাতীয় পরিষদে কোন আসন পায়নি। জাতীয় পরিষদে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৪৪টি আসনের মধ্যে ৮৮টি আসন লাভ করে ভুট্টোর পিপলস পার্টি। এছাড়া ৬টি আসন পায় ন্যাপ (ওয়ালী খান), ৯টি মুসলিম লীগ (কাইউম খান), ৭টি মুসলিম লীগ (কাউন্সিল), ২টি মুসলিম লীগ (কনভেনশন), ৭টি জমিয়তে উলামাই-পাকিস্থান, ৭টি জমিয়তে উলামায়-ই-ইসলাম, ৪টি জামায়াত-ইসলামী এবং ১৩টি পায় নির্দলীয় প্রার্থী।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের একটি উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল আওয়ামী লীগ পশ্চিম পাকিস্তানে ও পিপিপি পূর্ব পাকিস্তানে কোন আসন লাভ করতে পারেনি। স্পষ্টতই এ নির্বাচন ছিল অঞ্চলভিত্তিক। প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি। আমন লাভ করে। প্রদত্ত ভােটের ৮৯ ভাগ পায় দলটি। বাকী ১২টি আমনের মধ্যে ৯টি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, ২টি পিডিপি এবং ১টি জামায়াত-ইইসলামী। আওয়ামী লীগ সংরক্ষিত ১০টি মহিলা আমন সহ নির্বাচনে ৩১০টি আসনের মধ্যে সর্বমােট

অসহযােগ আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধুঃ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন। এ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় শাসনের বিপরীতে স্বশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে দিগনির্দেশনামূলক ভাষণের মাধ্যমে অসহযােগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘােষণা করেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ বিভিন্ন নির্দেশের মাধ্যমে এ আন্দোলন পরিচালনা করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সরকার গঠনে আহবান জানানাের পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘােষণা করেন। শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে অসহযােগ আন্দোলন শুরু করে। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরে সামরিক সরকারের গড়িমসি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির সরাসরি অসহযােগিতার ফলে শেখ মুজিবুর রহমান অসহযােগ আন্দোলনের ডাক দেন। এর বিস্ততি ছিল সম্পূর্ণ পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপী। অসহযােগ আন্দোলনের পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং নয়মাস যুদ্ধের পর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
উপসংহারঃ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে যে একতাবােধ ও জাতীয়তাবােধের সঞ্চার ঘটেছিল তা আমাদের সমুন্নত রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং গড়তে হবে সােনার বাংলাদেশ।

আরও দেখুনঃ

এইচএসসি 2022 যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র [৭ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। www.dshe.gov.bd Assignment

এইচএসসি 2022 অর্থনীতি ২য় পত্র [৭ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান। PDF Answer Download

সকল পোস্টের আপডেট পেতে ‍নিচের ফেসবুক আইকনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে জয়েন করুন।

Check Also

প্রবাস বন্ধু রচনায় প্রতিফলিত সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয়। ১০ম শ্রেণি [৩য় সপ্তাহ] বাংলা

১০ম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। প্রিয়  ১০ম শ্রেণীর …