বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের উপর ভিত্তি করে শিল্পের শ্রেণিবিন্যাস কর। দ্রুত শিল্পোন্নয়নে কোন ধরণের শিল্প স্থাপন করা যুক্তিযুক্ত মতামত দাও।

এইচএসসি 2022 সালের পরীক্ষা অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সপ্তম সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। যার প্রশ্ন ইতিমধ্যে আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। এখান থেকে আপনি এইচএসসি 2022 সালের অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন দেখে প্রশ্নের নং অনুযায়ী ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। যেহেতু আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দাঁড়া অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর তৈরি করেছি। তাই শিক্ষার্থীরা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে উত্তর ডাউনলোড করে সর্বোচ্চ নম্বর পেতে পারেন। উত্তর পেতে নিচের অংশ ভালভাবে পড়ুন।

এইচএসসি 2022 (৭ম সপ্তাহ) অর্থনীতি ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর:

আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্নের ছবি দেখে প্রশ্ন বুঝে এবং প্রশ্নের নং অনুযায়ী উত্তর ডাউনলোড করার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হলো।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের শিল্পের শ্রেণিবিন্যাসঃ

বাংলাদেশে শিল্প কাঠামাের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে,আমাদের শিল্পখাতে তিনটি উপখাত রয়েছে, যথা-

(১) বৃহৎ শিল্প

(২) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ও

(৩) কুটির শিল্প।

নিম্নে বাংলাদেশে শিল্পখাতে এই তিন ধরনের শিল্পের অবস্থান ও এদের পার্থক্যসমূহ আলােচনা করা হল:

১। বৃহৎ শিল্প: বাংলাদেশ শিল্প আইন অনুযায়ী যে শিল্প করখানা ২৩০ জনের অধিক শ্রমিক কাজ করে তাকে বৃহৎ শিল্প বলে। অন্যদিকে দেশের ২০০৫ সনের শিল্পনীতিতে সে সমস্ত শিল্পের জমি এবং স্থায়ীভবন ব্যতিরেকে অন্যান্য মােট স্থায়ী বিনিয়ােগ ১০ কোটি টাকার বেশি তাদেরকে বৃহদায়তন শিল্প বলা হয়েছে। বৃহৎ শিল্প কারখানায় দক্ষ শ্রমিক, প্রচুর মূলধন ও জটিল যন্ত্রপাতির সাহায্যে বিপুল পরিমাণের দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করা হয়। মূল্য সংযােজন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৃহদায়তন শিল্পের অবদান: মূল্য সংযােজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বৃহৎ শিল্পের গুরুত্ব সর্বাধিক। বাংলাদেশে শিল্পখাতে বার্ষিক গড়ে চলতি মূল্যে যে পরিমান মূল্য সংযােজিত হয় তার প্রায় ৪৮ শতাংশ বৃহদায়তন শিল্প থেকে পাওয়া যায়। তবে বৃহৎ শিল্পে মূল্য সংযােজনের পরিমাণ সর্বাধিক হলেও এই উপখাতে কর্মসংস্থানের পরিমান তুলনামূলক ভাবে কম। বাংলাদেশের শিল্পখাতে নিয়ােজিত শ্রমশক্তির মাত্র ১৩ শতাংশ বৃহৎ শিল্পে নিয়ােজিত রয়েছে।

২। মাঝারি শিল্প: ২০০৫ সনের শিল্পনীতিতে যে সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের জমি এবং স্থায়ীভবন ব্যতিরেকে অন্যান্য মােট স্থায়ী বিনিয়ােগ অনুর্ধ্ব ১.৫০ কোটি টাকা হতে ১০ কোটি টাকা সেগুলােকে ক্ষুদ্র শিল্প বলা হয়। সিরামিক অটোমােবাইলসহ হাল্কা ইঞ্জিনিয়ারিং, সিল্ক শিল্প, কোল্ড স্টোরেজ, ফার্ণিচার, ইত্যাদি মাঝারি শিল্পের অন্তর্গত।

৩। ক্ষুদ্র শিল্প: বাংলাদেশের শিল্প আইন অনুযায়ী যে সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিনিয়ােগের পরিমান অনুর্ধ ১০ লক্ষ টাকা সেগুলােকে ক্ষুদ্র শিল্প বলা হয়। ২০০৫ সনের শিল্পনীতি অনুযায়ী যে সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের মূল্য/প্রতিস্থাপন ব্যয় অনধিক ১.৫০ কোটি টাকা। সে গুলােকে ক্ষুদ্র শিল্প বলা হয়। ছােট ছােট ফ্যাক্টরিতে ক্ষুদ্র শিল্পের কাজ চলে এবং সেখানে হাল্কা যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহৃত হয়। হােসিয়ারী শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, দেশলাই শিল্প ইত্যাদি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র শিল্পের উদাহরণ। মূল্য সংযােজন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবদান: মূল্য সংযােজনের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দেশের শিল্পখাতে বার্ষিক গড়ে চলতি মূল্যে যে পরিমান মূল্য সংযােজিত হয় তার প্রায় ৩৫ শতাংশ এই শিল্প থেকে পাওয়া যায়। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এই উপখাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের শ্রমশক্তির প্রায় ২৬ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নিয়ােজিত রয়েছে।

৪। কুটির শিল্প: সাধারণত মালিকের গ্রামেই স্থাপিত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের সাহায্যে এর উৎপাদন কাজ পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের ১৯৯১ সনের লক্ষ টাকা সেগুলােকে কুটির শিল্প বলে। হস্ত চালিত তাঁত শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, মৃৎ শিল্প, বাঁশ ও বেত শিল্প, কাষ্ঠ শিল্প, বিড়ি শিল্প প্রভৃতি ত আমাদের কুটির শিল্পের উদাহরণ।

রপ্তানিমুখী শিল্পঃ

পােশাক যে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিপণ্য, এ কথা আজ আর কারও অজানা নয়। কিন্তু আমরা কয়জন জানি যে রপ্তানিঝুড়িতে অল্প পরিচিত বা অপরিচিত অনেক পণ্যও আছে। এসব পণ্য থেকে রপ্তানি আয়ও কম নয়। একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টা আঁচ করা যাবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরাের (ইপিবি) তথ্য বলছে, বাংলাদেশ থেকে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭১৬ কোটি টাকার বাইসাইকেল রপ্তানি হয়েছে। মেঘনা গ্রুপ ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপসহ কয়েকটি বড় কারখানা রয়েছে। সাইকেল উৎপাদনের। কিন্তু গত অর্থবছর টুপি রপ্তানি হয়েছে সাইকেলের দ্বিগুণেরও বেশি। এই অর্থবছরে ২০ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ডলারের টুপি রপ্তানি হয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা।
ঠিক এ রকম প্রধান রপ্তানি পণ্য পােশাকের পাশাপাশি দেশের আনাচকানাচে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে নানামুখী রপ্তানি পণ্যের ছােট ছােট কারখানা। কেউ দেশীয় কাঁচামাল দিয়ে, আবার কেউ বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে এসব কারখানা গড়ে তুলেছেন।কোনাে কোনাে পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ খুব বেশি নয়, কোনাে কোনাে পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ আবার বেশ ভালােই। কিছু পণ্য আছে বিশ্ববাজার খুব বড় নয়, আবার কিছু আছে অনেক বড় বাজার, তুলনায় বাংলাদেশ রপ্তানি করছে সামান্যই। কমবেশি যা-ই হােক না কেন, দিন যাচ্ছে আর রপ্তানির ঝুড়িটি বড় হচ্ছে বাংলাদেশের। এতে কর্মসংস্থান যেমন বাড়ছে, অর্জিত হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রাও। প্রতিবেশী দেশের পাশাপাশি ইউরােপ, আমেরিকা, আফ্রিকার দেশগুলােতেও যাচ্ছে বাংলাদেশের অপ্রচলিত পণ্য। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি থেকে আয় করেছে। “
৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলার বা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৭ কোটি ৮৪ হাজার টাকা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা আরও বেশি ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের মােট রপ্তানির ৮৪ শতাংশই পােশাক।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এ খাতের আয় মােট রপ্তানির মাত্র ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। শীর্ষ ১০ রপ্তানি খাতের মধ্যে আরও আছে পাট ও পাটজাত পণ্য, হােম টেক্সটাইল, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, মৎস্য, ওষুধ ও সিরামিক। তাহলে অপ্রচলিত পণ্য থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কত। ইপিবির কাছে এর আলাদা কোনাে হিসাব নেই। এ নিয়ে দপ্তরটির ভালাে কোনাে গবেষণাও নেই। তবে গত অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সমান। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, খুবই ভালাে দিক যে দেশের আনাচকানাচে অনেক রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, যেগুলাে আবার বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। যদি কোনাে পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা দেখা যায়, ইপিবি সেই পণ্যের জন্য গবেষণা করে, নানা সহযােগিতার হাতও বাড়ায়। যেমন রপ্তানিমুখী জাহাজশিল্পের জন্য ইপিবি গবেষণা করেছে। সাইকেলের চেয়েও টুপি রপ্তানির পরিমাণ বেশি হওয়ার চিত্রটিকে বিশ্বাসযােগ্য মন্তব্য করে ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, দেশে অনেক ধরনের টুপি উৎপাদন হয়।
চলতি অর্থবছরে টুপি রপ্তানির পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলেই আমরা আশা করছি।’ পণ্য ও রপ্তানিচিত্র। অপ্রচলিত পণ্যের মধ্যেও কিছু আবার এরই মধ্যে পরিচিত য়ে গেছে। যেমন আসবাব, বাইসাইকেল, জাহাজ ইত্যাদি। আলু, হস্তশিল্প, কাঁকড়া ও কুঁচিয়া ইত্যাদি পণ্যও রপ্তানি হয় বলে অনেকেই জানেন। কিন্তু মানুষ খুব বেশি জানেন না, এমন অপ্রচলিত পণ্যের তালিকাটিই বড়। এগুলাে হচ্ছে পরচুলা, গরুর নাড়িভডি, চারকোল টুপি, মাছ ধরার বড়শি, মশারি, শুকনা খাবার, পাঁপড়, হাঁসের পালকের তৈরি পণ্য, লুঙ্গি, কাজুবাদাম, চশমার ফ্রেম, কৃত্রিম ফুল, গলফ শাফট, খেলনা, আগর, ছাতার লাঠি, শাকসবজির বীজ, নারিকেলের ছােবড়া ও খােল দিয়ে তৈরি পণ্য, ব্লেড, ইত্যাদি।
এ ধরনের ১০০-এর বেশি পণ্য রপ্তানি হয়। এর মধ্যে বেশ কিছু পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকিও দিয়ে থাকে সরকার। একদম অপরিচিত পণ্যও রয়েছে এ তালিকায়। যেমন শরীর থেকে রক্ত নেওয়ার পাইপ (ব্লাড টিউবিং সেট), অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) সি আর কয়েল, তামার তার ইত্যাদি। এসব পণ্যের কারখানা সাধারণত বড় হয়, বিনিয়ােগও একটু বেশি। তালিকার অন্য কারখানাগুলাে ছােট ছােট। আবার এমন পণ্যও রয়েছে, যার একটিমাত্র কারখানা রয়েছে দেশে। ইপিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাজুবাদাম আমদানি করে আবার রপ্তানিও করে বাংলাদেশ। মাঝে প্রক্রিয়াজাত করার পর কিছুটা মূল্য সংযােজিত হয়। রেশম, রাবার, ফেলে দেওয়া কাপড় থেকে তৈরি পণ্য, ভবন নির্মাণসামগ্রী, সিরামিক পণ্য, গ্লাস, তােয়ালে ইত্যাদিও রপ্তানি করা হয়। মসলা আমদানিকারক বাংলাদেশ বার মসলা রপ্তানিকারকও। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয় উল্লেখ করার মতাে প্রসাধনী পণ্যও।
আবার গত অর্থবছরে ৪ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩৬৫ কোটি টাকার সমান। এ ছাড়া রপ্তানি হয়েছে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের তামার তার, ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের গলফ খেলার স্টিক, ৫৪ লাখ ডলারের কৃত্রিম ফুল। রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ চিত্র ইপিবিতে পাওয়া যায় না। এখনাে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে পরিচালিত হয় বলে রপ্তানিকারকদের কোনাে তালিকাও নেই দপ্তরটির কাছে। রপ্তানি ও রপ্তানিকারকদের বিশদ তথ্য রয়েছে বরং জাতীয় রাজস্ব বাের্ডে (এনবিআর), যে তথ্য আবার সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য নয়। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গােলাম মােয়াজ্জেম বলেন, বহু বছর ধরেই রপ্তানি বহুমুখীকরণের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এর জন্য যথেষ্ট কাজ নেই সরকারের। প্রণােদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিও এমনকি খাতভিত্তিক। করণীয় কী তাহলে, এমন প্রশ্নের জবাবে গােলাম মােয়াজ্জেম বলেন, বৈশ্বিক একটি গবেষণায় উঠে আসে যে অপ্রচলিত পণ্যের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার গড় বয়স এক বছর, তবে বাংলাদেশে তা ১ বছর ৮ মাস। সে হিসাবে ভালাে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, সনাতনী রপ্তানি সহায়তা থেকে বের হয়ে উদ্যোক্তাকেন্দ্রিক সহায়তা দিতে হবে। কারণ, এই উদ্যোক্তাদের কারখানাগুলাে ক্ষুদ্র খাত হিসেবেও স্বীকৃতি পায়নি।

বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রমঃ

১। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামাে গঠনঃ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আবশ্যকীয় আর্থ-সামাজিক অবকাঠামাে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই। বাংলাদেশ সরকার রাস্তাঘাট, সেতু, বাঁধ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল প্রভৃতি নির্মাণ এবং যােগাযােগ ও পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রভৃতি ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামাে গড়ে তুলতে উল্লেখযােগ্য ভূমিকা রাখছে।
২। অর্থসংস্থান: বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অর্থসংস্থান। সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস এবং বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থসংস্থান নিশ্চিত করে বিশেষভাবে দায়িত্ব পালন করে।
৩। আয়-বৈষম্য হ্রাস: দেশের আয় বৈষম্য হ্রাস করার মাধ্যমে জনগনের সঞ্চয় ও ভােগ প্রবণতা বাড়িয়ে সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার নীতির মাধ্যমে বিত্ত”রাগিয়ে আয় বৈষম্য হ্রাস করে। লােকদের নিকট থেকে আদায়কৃত অর্থ দরিদ্র ও স্বল্পবিত্তের লােকদের কাজে
৪। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: বাংলাদেশ সরকার ক্রমবর্ধমান কর্মসংস্থান ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে।
৫। উন্নয়নের নীতি প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রক্রিয়া গতিশীল করার জন্য সরকার উন্নয়নের নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের সম্ভব হয়। বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়ােগের প্রসারকল্পে সরকার বিনিয়ােগ-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, আইন ও বিধিগত সংস্কার তথা সার্বিক বিনিয়ােগ পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নে পৃথকভাবে গৃহীত প্রকল্পসমূহের বাইরে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশেষত:

ভৌত অবকাঠামােগত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মােট ১,৪৩২টি বেসরকারি প্রকল্পে বিনিয়ােগ প্রস্তাবনার পরিমাণ ছিল ৬৮,২৯১ কোটি টাকা। যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দাঁড়িয়েছে। ৮৯৪টি প্রকল্পে মােট ৫৩,৬৯৭ কোটি টাকা। ব্যক্তিখাতে তৈরি পােশাক ও নীটওয়ার শিল্পের বিকাশ শিল্প খাতকে গতিশীল করে তুলছে এবং দেশে বিনিয়ােগসহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখছে। ফলে এ খাতে বিদেশি বিনিয়ােগ আকৃষ্ট হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে (ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত) মােট উৎপাদিত বিদ্যুৎ ২২,৬৯১ মিলিয়ন কিলােওয়াট আওয়ার যার ৪৫.৫১ শতাংশই বেসরকারি খাতে উৎপাদিত হয়েছে এবং ৬.৯১ শতাংশ বিদ্যুৎ আমদানি খাত হতে এসেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের মােট বিনিয়ােগ জিডিপির ২৮.৯৭ শতাংশ যার মধ্যে বেসরকারি খাতের অবদান ২২.০৭ শতাংশ (উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৫)।
দেশের অর্থনৈতির প্রবৃদ্ধি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানাের ক্ষেত্রে সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। বিশ্বব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) প্রকাশিত ডুয়িং বিজনেস, ২০১৪ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী এজ অব ডুয়িং বিজনেস গ্লোবাল র্যাংক এ বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৩তম। তবে বিনিয়ােগকারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৩তম। তাছাড়া ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশর অবস্থান ১৩১তম এবং ব্যবসা শুরু ও কর প্রদানের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১১৫তম ও ৮৩তম স্থানে রয়েছে। আমাদের পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনাসমূহে বেসরকারি খাতে বরাদ্ধ ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পঞ্চ-বার্ষিকী পরিকল্পনায় বোরকারি খাতে সর্বাধিক পরিমাণ যা মােট বরাদ্দের ৫৬.১৭ শতাংশ। বেসরকারি উদ্যাক্তাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য ক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। তাই আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে আমাদের বেসরকারি খাত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।

আরও দেখুনঃ

এইচএসসি 2022 সালের পৌরনীতি ও সুশাসন [৭ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। পিডিএফ উত্তর ডাউনলোড।

সকল পোস্টের আপডেট পেতে ‍নিচের ফেসবুক আইকনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে জয়েন করুন।

Check Also

৯ম শ্রেণি [৩য় সপ্তাহ] ভূগোল ও পরিবেশ এসাইনমেন্ট উত্তর 2022। পিডিএফ উত্তর ডাউনলোড করুন এখানে

নবম শ্রেণীর 2022 শিক্ষাবর্ষের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত ভূগোল ও পরিবেশ অ্যাসাইনমেন্ট …