বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো (কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসন) বিশ্লেষণ। এসএসসি 2021 পৌরনীতি ও নাগরিকতা [৬ষ্ঠ সপ্তাহ]

বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত এসএসসি 2021 সালের পৌরনীতি ও নাগরিকতা ষষ্ঠ সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। যেসকল শিক্ষার্থীরা এখনো পর্যন্ত এসএসসি 2021 সালের পৌরনীতি ও নাগরিকতা ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন পাননি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রশ্ন এবং উত্তর দুটোই ডাউনলোড করে নিতে পারেন।এসএসসি 2021 সালের ষষ্ঠ সপ্তাহের নির্ধারিত পৌরনীতি ও নাগরিকতা অ্যাসাইনমেন্টের নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর পেতে নিচের অংশ ভালভাবে পড়ুন।

এসএসসি পৌরনীতি ও নাগরিকতা ষষ্ঠ সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন 2021

এসএসসি 2021 সালের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সুবিধার কথা বিবেচনা করে পৌরনীতি ও নাগরিকতা অ্যাসাইনমেন্টের উত্তরের পাশাপাশি এর ব্যাখ্যা সহ প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্নের আলোকে এবং নং অনুযায়ী উত্তর ডাউনলোড করে নিতে পারেন। নিতে এসেছি 2021 সালের পৌরনীতি ও নাগরিকতা ষষ্ঠ সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন দেওয়া হল।

অ্যাসাইনমেন্টঃ

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো (কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসন) বিশ্লেষণ।

নির্দেশনাঃ

  1. পাঠ্যপুস্তক/শিক্ষক (মােবাইলে/অনলাইনে) যােগাযােগ করে নেয়া যেতে পারে।
  2. প্রয়ােজনে ইন্টারনেট থেকেও সহায়তা নেয়া যেতে পারে।
  3. বাংলাদেশে প্রশাসনিক কাঠামাে বিশ্লেষণ করতে হবে
  4. কেন্দ্রীয় প্রশাসন বিশ্লেষণ করতে হবে
  5. বিভাগীয় প্রশাসনের গঠন ও কার্যাবলী বর্ণনা করতে হবে
  6. জেলা প্রশাসনের কার্যাবলি বর্ণনা করতে হবে
  7. উপজেলা প্রশাসনের কার্যাবলি বর্ণনা করতে হবে।

এসএসসি 2021 পৌরনীতি ও নাগরিকতা ষষ্ঠ সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

প্রিয় এসএসসি 2021 সালের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। চলুন আমাদের ওয়েবসাইটের বিষয় ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক কর্তৃক তৈরিকৃত এসএসসি 2021 সালের ষষ্ঠ সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত পৌরনীতি ও নাগরিকতা এসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ এবং নির্ভুল উত্তর দেখে নেয়া যাক। নিতে এসেছি 2021 সালের পৌরনীতি ও নাগরিকতা ষষ্ঠ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর দেওয়া হল।

উত্তরঃ

ক) বাংলাদেশে প্রশাসনিক কাঠামাে বিশ্লেষণঃ

রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব প্রশাসনের। রাষ্ট্রের ভিতরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সুষ্ঠু প্রশাসনের কোনাে বিকল্প নেই। প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট কাঠামাের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। নিচে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামাে ছকের সাহায্যে তুলে ধরা হলাে

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামাের প্রধান দুটি স্তর রয়েছে। ১। কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসন। দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর। মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরও আছে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বাের্ড ও কর্পোরেশন। এসব দপ্তর বা অধিদপ্তরগুলাে সচিবালয়ের লাইন সংস্থা হিসেবে বিভিন্ন সরকারি কাজ বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করে। আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়। মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে থাকে। মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলাে বিভাগীয় প্রশাসন। এর পর জেলা প্রশাসন এবং জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত।

বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা:

  •  বিভাগ ৮ টি, সর্বশেষ ময়মনসিংহ।
  • বৃহত্তর জেলা ১৯ টি।
  • জেলা ৬৪ টি।
  • সিটি কর্পোরেশন ১২ টি, সর্বশেষ ময়মনসিংহ।
  • পৌরসভা ৩২৭ টি, সর্বশেষ দোহাজারী, চট্টগ্রাম।
  • উপজেলা ৪৯৩ টি, সর্বশেষ ডাসার, মাদারীপুর।
  • থানা ৬৪০ টি, সর্বশেষ মাধবদী,নরসিংদী।
  • ইউনিয়ন ৪৫৬২ টি।
  • গ্রাম ৮৭,৩৭২ টি প্রায়। .

খ) কেন্দ্রীয় প্রশাসন:

সচিবালয় কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। দেশের সকল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখানে গৃহীত হয়। সচিবালয় কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে গঠিত। এক একটি মন্ত্রণালয় এক একজন মন্ত্রীর অধীনে ন্যস্ত। সচিবালয়ের প্রশাসনিক কাঠামােঃ মন্ত্রী→সচিব →অতিরিক্ত সচিব→ যুগ্ম সচিব→ উপসচিব →সিনিয়র সহকারী সচিব→সহকারী সচিব→কর্মকর্তা→ কর্মচারী। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে একজন সচিব আছেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান এবং মন্ত্রীর প্রধান পরামর্শদাতা। মন্ত্রণালয়ের সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা সচিবের হতে। মন্ত্রীর প্রধান কাজ প্রকল্প প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ। করে। সচিবকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেন অতিরিক্ত সচিব। কোনাে মন্ত্রণালয়ে সচিব না থাকলে তিনি সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের অণুবিভাগে একজন যুগ্ম সচিব থাকেন যিনি সচিবকে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করেন।

তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী ও অফিস ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রণালয়ের এক বা একাধিক শাখার দায়িত্বে থাকেন একজন উপসচিব। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নীতি নির্ধারণে যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবকে পরামর্শ দেন ও সহযােগিতা করেন। ছন সিনিয়র সহকারী সচিব, সহকারী সচিব, বিভিন্ন এছাড়া মন্ত্রণালয়ে আরও রয়েছেন। ধরণের কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্য পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, সরকারের কয়টি মন্ত্রণালয় থাকবে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কতজন অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব ও সহকারী সচিব থাকবেন তার নির্দিষ্ট কোনাে সংখ্যা নেই। সরকার ও মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি অনুযায়ী তাদের সংখ্যা নির্ধারিত হয়।

বিভাগীয় প্রশাসন:

বাংলাদেশে ৮ টি বিভাগ আছে। প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হলে একজন বিভাগীয় কমিশনার। কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তাঁর কাজের জন্য কেন্দ্রের নিকট দায়ী থাকেন। বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকদের কাজ তদারক করেন। বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন ও অত্ত্বাবধান করেন। ভূমি রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করেন ও খাস জমি তদারক করেন। তিনি জেলা প্রশাসকদের বদলি করতে পারেন। বিভাগের ক্রীড়া উন্নয়ন, শিল্পকলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির কাজ করেন। জনকল্যাণ ও সেবামূলক কাজ পরিচালনা করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন।

গ) জেলা প্রশাসনের কার্যাবলি:

জেলা প্রশাসন মাঠ বা স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। জেলা প্রশাসনের প্রধানকে বলা হয় জেলা প্রশাসক। তিনি বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ সদস্য। তাকে কেন্দ্র করে জেলার সকল সরকারি কাজ পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসকের কাজগুলাে হলােঃ

১) প্রশাসনিক কাজ: জেলা প্রশাসক কেন্দ্র থেকে আসা সকল আদেশ-নির্দেশ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। প্রশাসক কেন্দ্র থেকে

২) রাজস্ব সংক্রান্ত ও আর্থিক কাজ: জেলা প্রশাসক জেলার কোষাগারের রক্ষক ও পরিচালক। জেলার সব ধরনের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব তার। সে কারণে তিনি কালেকটর নামে পরিচিত। এ ছাড়া ভূমি উন্নয়ন, রেজিস্ট্রেশন ও রাজস্বসংক্রান্ত বিবাদ মীমাংসা করে থাকেন।

৩) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত কাজ: জেলার মধ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের দায়ত্ব তাঁর উপন ন্যস্ত। তিনি পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যে এ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

৪) উন্নয়নমূলক কাজ: জেলার শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, রাস্তাঘাট ও যােগাযােগব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি বাস্তবায়নের দায়িত্বও তাঁর। জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন।

৫) স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত কাজ: জেলা প্রশাসক স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলাের (উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ইউনিয়ন) কাজ তত্ত্বাবধান করেন। তিনি জেলার অধীনস্থ সকল বিভাগ ও সংস্থার কাজের সমন্বয় করেন। জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হিসেবে তিনি আরও অনেক দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জেলার সংবাদপত্র ও প্রকাশনা বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করেন। জেলার বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সে সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করেন। তিনি শুধু জেলা প্রশাসক নন। তিনি জেলার সেবক এবং বন্ধুও বটে।

উপজেলা প্রশাসন:

বাংলাদেশে মােট ৪৯৩ টি প্রশাসনিক উপজেলা আছে। উপজেলার প্রশাসক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। উপজেলার প্রশাসনিক কাজ তদারক করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব। উপজেলার সকল উন্নয়নমূলক কাজ তদারক করা, সরকারি অর্থের ব্যয় তত্ত্ববধান করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। দুর্যোগ প্রতিরােধ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা কোষাগারের রক্ষক। বিভিন্ন সময়ে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্বও তিনি সম্পাদন করেন।

আরও দেখুনঃ

এসএসসি 2021 অর্থনীতি [৬ষ্ঠ সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। SSC Exam Batch-2021

এসএসসি 2021 সালের [৬ষ্ঠ সপ্তাহ] ভূগোল ও পরিবেশ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। SSC 2021 Assignment

Check Also

ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক উৎসবের পরিচয়। ৭ম শ্রেণি বাংলা [৩য় সপ্তাহ] এসাইনমেন্ট উত্তর

সপ্তম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। প্রিয় সপ্তাহ শ্রেণীর …