বাংলাদেশের কয়েকটি প্রাচীন নগর সভ্যতার নাম, অবস্থান, প্রাপ্ত নিদর্শন, বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে ছকের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা এবং বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।

৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য১০ম সপ্তাহের নির্ধারিত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। আমরা বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কর্তৃক প্রকাশিত ষষ্ঠ শ্রেণি দশম সপ্তাহের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন সংগ্রহ করে আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করেছি। যারা ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যাসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ নম্বর পেতে সহযোগিতা করবে। কেননা আমাদের ওয়েবসাইটের প্রকৃত প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্ট এর উত্তর ক্লাস ভিত্তিক বোর্ড বইয়ের আলোকে তৈরি করা হয়। ফলে বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অ্যাসাইনমেন্ট অধিক গ্রহণযোগ্য হয়। ষষ্ঠ শ্রেণি দশম সপ্তাহের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করতে পুরো পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

৬ষ্ঠ শ্রেণি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ১০ম সপ্তাহ প্রশ্ন 2021

ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে প্রশ্ন বুঝে অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করে নিতে পারে এজন্য শুরুতে আমরা বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন বুঝে আছেন নাটোরের উত্তর ডাউনলোড করলে অ্যাসাইনমেন্টে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ষষ্ঠ শ্রেণীর দশম সপ্তাহের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন নিচে তুলে ধরা হলো।

দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা।

অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজঃ

বাংলাদেশের কয়েকটি প্রাচীন নগর সভ্যতার নাম, অবস্থান, প্রাপ্ত নিদর্শন, বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে ছকের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা এবং বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।

৬ষ্ঠ শ্রেণি ১০ম সপ্তাহ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর 2021

আপনারা যারা এখনো পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণীর দশম সপ্তাহের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট এর সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছেন তাদের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণীর দশম সপ্তাহের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর নিচে তুলে ধরা হলো।

তারিখ : ২২ জুলাই, ২০২১

বরাবর,

প্রধান শিক্ষক ।

মতিঝিল মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মতিঝিল,ঢাকা।

বিষয়ঃ বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতা এবং বর্তমান বাংলাদেশ ও প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিষয়ক প্রতিবেদন।

জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, ২০ জুলাই,২০২১ তারিখে প্রকাশিত আপনার আদেশ যাহার স্মারক ম. ম.স.উ.বি.-০৬ / ২০২১ অনুসারে বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতা এবং বর্তমান বাংলাদেশ ও প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য” বিষয়ক প্রতিবেদনটি নিম্নে পেশ করছি”।

নিম্নে বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে প্রাচীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য তুলে ধরা হলােঃ

সভ্যতার নামসভ্যতার অবস্থানপ্রাপ্ত নিদর্শনসমূহবাণিজ্যিক গুরুত্বসাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য
উয়ারী বটেশ্বরপ্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত দুটি গ্রাম।ধাতব, অলংকার স্বল্প মূল্যবান পাথর, কাচের পুতি, চুন-সুরকির রাস্তা, ইট নির্মিত স্থাপত্য, দুর্গ, ছাপা, কৃত, রৌপ্য, মুদ্রা, নয়নাভিরাম বাটখারা, মৃৎপাত্র ইত্যাদি।উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি নদী বন্দর। এটি ছিল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র।এখানে আবিষ্কার হয়েছে বাংলাদেশের প্রাচীনতম চিত্র শিল্প। আবিষ্কৃত পাত্র পাথর ও কাচের পুতিতে এই চিত্র শিল্প লক্ষ করা যায়।
মহাস্থানগড়বগুড়া শহর থেকে প্রায় 14 কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে এটি গড়ে ওঠে।অলংকার মুদ্রা পোড়ামাটির শিল্প কর্ম লিপি ইত্যাদি।মহাস্থানগড় পুন্ড্রনগর ছিল সমৃদ্ধ নগর এবং ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ। এভাবে সাথে বাণিজ্যিক কারণে ভারতীয় উপমহাদেশের অনেক নগর বন্দরে যোগাযোগ ছিল। এখানে অনেক বাণিজ্যিক লেনদেন ঘটেছিল।মহাস্থানগড় বৃষ্টি বৌদ্ধবিহার ও একশটি ব্রাহ্মণ্য ছিল যা মনে করা হতো এবং এগুলোকে বর্তমানকালের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করা হতো। এখানে রয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক নিদর্শন।

বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতা এবং বর্তমান বাংলাদেশ প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতির সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য

বর্তমান বাংলাদেশে যে জীবনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তার শুরু ও বিকাশ হঠাৎ করে হয়নি। প্রাচীন বাংলার মানুষের হাতেই তৈরি হয়েছে এর ভিত্তি। আর কালে কালে নানা পরিবর্তনের ভিতর দিয়ে এর বিকাশঘটেছে। তাই আজকের বাংলাদেশের সমাজে অনেক পরিবর্তন এলেও আগের দিনের অনেক বৈশিষ্ট্যএখনাে অক্ষুন্ন রয়েছে। আবার কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে একেবারে আলাদা ধারাও লক্ষ করা যায়। মানুষের জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটে।

আজকের বাংলাদেশের সংস্কৃতি গভীরভাবে লক্ষ করলে দেখা যাবে এতে প্রাচীন বাঙালি সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে বাঙালির মধ্যে অসাম্প্রদায়িক জীবনধারা বিকাশে প্রাচীন বাংলার প্রভাব স্পষ্ট। সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ধর্ম। বাংলাদেশের মানুষের বেশির ভাগ মুসলমান। কিন্তু এদেশে ইসলাম ধর্ম এসেছে মধ্যযুগে। তাই প্রাচীন বাংলায় ইসলামের প্রভাব ছিল না। তখন হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মই ছিল সমাজের প্রধান ধর্ম। এখানে প্রাচীন বাংলা বলতে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের সীমানাকে বােঝানাে হচ্ছে। ধর্মবিশ্বাসের দিক থেকেও আমাদের দেশে বৈচিত্র্য কম নয়। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্ম এখানে পালিত হচ্ছে । ইসলাম ধর্ম প্রচারে মুসলিম সুফি ও সাধকরাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এভাবেই আজ বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশে পরিণত হয়েছে।

প্রাচীন বাংলার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর। সেসময়ে কৃষিতে বাংলার উদ্বৃত্ত ছিল। ধান ছিল এই অঞ্চলের প্রধান ফসল। প্রাচীন বাংলায় উৎপাদিত হাড় ও চিনি বিদেশে রপ্তানি হতাে। তুলা,সরিষা ও পান চাষের জন্য বাংলাদেশের খ্যাতি ছিল। অর্থাৎ প্রাচীন বাংলা কৃষিতে সমৃদ্ধশালী ছিল বর্তমান বাংলার কৃষির সাথে প্রাচীনকালে উৎপাদিত ফসলের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বিদেশি নানা জাতের ফসল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি। প্রাচীন যুগ থেকেই বাংলাদেশের তাতিরা মিহি সুতি ও রেশমি কাপড় বুনতে পারদর্শী ছিল। প্রাচীন বাংলার মসলিন কাপড় ছিল পৃথিবী বিখ্যাত। তখন উন্নত মানের মৃৎপাত্র, ধাতব পাত্র, অলংকার নির্মাণ হতাে। বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে মসলিন কাপড়ের অস্তিত্ব না থাকলেও যার মসলিন কাপড় তৈরি করতেন তাদের বংশধররা বর্তমানে জামদানি শাড়ি তৈরি করছেন। বর্তমান বাংলাদেশ পােশাক শিল্পে পৃথিবীর অন্য দেশ থেকে অনেক এগিয়ে।

প্রাচীন যুগে বাংলার বিনােদন ও ধর্ম-কর্মের অংশ হিসেবে গ্রামে-গঞ্জে নাচগান, নাটক, মল্লযুদ্ধ ও কুস্তি খেলার প্রচলন ছিলাে। বাদ্যযন্ত্র হিসেবে করতাল, বীণা, বাঁশি, মৃদঙ্গ দেখা যেত। তবে বর্তমানে এসব পুরাতন বাদ্যযন্ত্রের কয়েকটি সাথে মিল খুঁজে পাওয়া গেলেও বর্তমান বাঙালির বাদ্যযন্ত্র হিসেবে রয়েছে ঢাক-ঢােল, হারমােনিয়াম, পিয়ানাে, বেহালা ইত্যাদি। প্রাচীন যুগের মঞ্চনাটকের প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমান সংস্কৃতির আগ্রহ মূলত টেলিভিশন কিংবা মােবাইলে নাটক, সিনেমা দেখায়। বর্তমানে মঞ্চ নাটকের প্রচলন থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টেলিভিশন কিংবা মােবাইল প্রযুক্তির উপর দর্শক নির্ভরশীল।

প্রাচীন বাংলায় তিনটি বড় ভাষাগােষ্ঠী তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে এসেছে। তারা ছিলাে অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও আয। তাদের প্রভাব আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিতে এখনও রয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের রয়েছে প্রকৃতির সাথে বসবাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য, নানা জাতের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া নানান সংস্কৃতি,বিভিন্ন ধর্মের কাছ থেকে পাওয়া প্রেরণা। এসব মিলে জনবৈচিত্র্যের মতােই বাঙালি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকেও লালন করে আসছে। বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের হলাে, এখানকার প্রকৃতি যেমন সমৃদ্ধ তেমনি এর রয়েছে ভাঙাগড়ার খামখেয়ালিপনা। এটিকে কোনভাবেই এড়িয়ে চলা সম্ভব ছিল না, এখনও অসম্ভব। পরিশেষে বলা যায় যে, প্রাচীন বাংলার ও বর্তমান বাংলার সংস্কৃতির মধ্য বেশ কিছু বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাদৃশ্য বর্তমানেও বিদ্যমান। বিদ্যমান না।

 প্রতিবেদন তৈরির তারিখঃ

প্রতিবেদকের নাম ও ঠিকানাঃ

প্রতিবেদন প্রাপকের নাম ও ঠিকানাঃ

সকল পোস্টের আপডেট পেতে ‍নিচের ফেসবুক আইকনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে জয়েন করুন।

Check Also

প্রবাস বন্ধু রচনায় প্রতিফলিত সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয়। ১০ম শ্রেণি [৩য় সপ্তাহ] বাংলা

১০ম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। প্রিয়  ১০ম শ্রেণীর …