‘মানুষ জাতি’ কবিতার বিষয়বস্তুর আলোকে সমাজে মানুষে মানুষে সৃষ্ট ভেদাভেদ দূরীকরণে তোমার অভিমত ব্যক্ত কর।

ইতিমধ্যে আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১৭ তম সপ্তাহের বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন প্রকাশ করেছি। আজ ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ১৭ তম সপ্তাহের নির্ধারিত বিষয় বাংলা এর সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করছি। যা ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে এবং পূর্ণাঙ্গ নম্বর পেতে সহযোগিতা করবে। নিচে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ১৭ তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হল।

৬ষ্ঠ শ্রেণি বাংলা [১৭তম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান

চলুন ৬ষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ১৭ তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেখে নেওয়া যাক। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য নিচের প্রশ্নের ছবি এবং তার পরবর্তীতে উত্তর দেয়া হলো।

অ্যাসাইনমেন্টঃ

‘মানুষ জাতি’ কবিতার বিষয়বস্তুর আলােকে সমাজে মানুষে মানুষে সৃষ্ট ভেদাভেদ দূরীকরণে তােমার অভিমত ব্যক্ত কর।

নির্দেশনাঃ

তোমার পাঠ্যবইয়ের মানুষ জাতি’ কবিতা ও তার বিষয়বস্তু | পড়বে এবং নৈতিক শিক্ষা ও মানব কল্যাণ সম্বলিত বিভিন্ন ধরণের গল্প, কবিতা উপন্যাস পড়বে এবংপ্রয়ােজনে ইন্টারনেটের সাহায্য নিবে।

উত্তরঃ

ভূমিকাঃ

বিশ্বের প্রতিটি সৃষ্টি একক ও অনন্য, সৌন্দর্যে মহিমান্বিত।প্রতিটি সৃষ্টিই স্বাধীনভাবে স্ব স্ব সৌন্দর্য বিলিয়ে দিতে দিবত ধন্য হচ্ছে এবং বিশ্বের সেবা করে চলছে। মানুষ তার মধ্যে আরও বেশি একক ও অনন্য। পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা কোটি কোটি। কিন্তু একজন মানুষ অন্য আর একজন মানুষের মতাে নয়, সম্পূর্ণ আলাদা। এটি মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য যেটি তাকে দান করে আলাদা গৌরব ওমর্যাদা।একক ও অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে মানুষ যদি বৃদ্ধি লাভ করতে পারে তাহলেই মানুষ হয়ে ওঠে স্বাধীন। মানুষ তার অনন্য বৈশিষ্ট্য ও স্বাধীনতার কারণে নিজেকে। আবিষ্কার করতে চায় বা নিজেকে সে আরও গভীরভাবে জানতে চায়।

নিজেকে জানার মধ্য দিয়ে সে নিজের শক্তির সীমাবদ্ধতা, ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হয়। এতে সে তার নিজের জীবন অর্থপূর্ণভাবে যাপন করতে পারে। এবং অন্যের সাথেও তার সুসম্পর্ক বজায় থাকে। এভাবেই মানুষ পরিপূর্ণ আত্মদান করে তার মানব জীবন স্বার্থক । থক করে তােলে।

মানুষ জাতি কবিতার বিষয় বস্তুর আলােকে সমাজে মানুষ মানুষের সৃষ্ট ভেদাভেদ দূরীকরণে আমার মতামত নিম্নে ব্যক্ত করা হলােঃ

শারীরিক গঠন ও আকৃতিগত পার্থক্য:

পৃথিবীর একটি বিস্ময়কর বিষয় হলাে মানুষের মধ্যে কেই কারাে মতাে নয়। একই মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া এমনকি জমজ ভাইবােন হলেও একজন আরেকজনের মতাে নয়। দেখতে প্রায় একই রকম হলেও কিংবা উচ্চতার মিল থাকলেও কোন কোন দিকে কিছুটা ভিন্নতা থাকছেই। মানুষের ব্যক্তি স্বাতন্ত্রের প্রথম বৈশিষ্ট্যই হলাে শারিরিক গঠন ও আকৃতিগত দিক থােকে।

আত্মপরিচয়:

প্রত্যেক মানুষের রয়েছে তার নিজস্ব আত্মপরিচয়। তার নিজের নাম, ঠিকানা, পেশা, পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন ও বংশ পরিচয়। এগুলের মধ্য দিয়েও তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের দিক প্রকাশিত হয়। অনেক সময় একই প্রতিষ্ঠানে দুইজন শিক্ষার্থীর একই। নাম হলেও তাদের রােল নম্বর দিয়ে তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়।তবে যে করেই হােক আত্মপরিচয়ের মাধ্যমে মানুষ কোন না কোনভাবে তার আলাদা অস্তিত্ব প্রকাশ করে থাকে।

ভিন্ন ব্যাক্তিত্ব:

ব্যক্তিত্বের দিক থেকেও মানুষে মানুষ মাৈলিক পার্থক্য রয়েছে। মনােবিজ্ঞানীগণ মানুষের কতকগুলাে মাৈলিক বৈশিষ্টের ভিত্তিতে ব্যক্তিত্বের শ্রেণীবিভাগ করলেও সত্যিকারে যত মানুষ আছে, রকম ব্যক্তিত্বও আছে। তার নিজস্ব পরিবেশ, পটভূমি ও জীবন অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করেই তার ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়। স্বভাব গুণে মানুষের কিছুটা মিল থাকলেও মূলত একজন মানুষ আরেকজন মানুষ থেকে আলাদাই।

ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও রুচিবােধ:মানুষে মানুষে পছন্দ, অপছন্দ ও রুচিবােধের মধ্যেও ভিন্নতা রয়েছে। এর কারণেও মানুষ আলাদা। নানা বিষয়ে এই ভিন্নতা লক্ষণীয়। যেমনঃ পােশাক পরিচ্ছদ, খাবার দাবার, জীবন সঙ্গী ৰা ৰন্ধু নির্বাচন পরিবেশ, রং ইত্যাদি। বিষয় নির্বাচনেও মানুষের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

মূল্যবােধের পার্থক্য:

মূল্যবােধের পার্থক্যের কারণে মানুষের ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যে অনেক বড় পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। প্রত্যেক মানুষের রয়েছে নিজস্ব মূল্যবােধ বা বিশ্বাসের ধারা যে অনুসারে সে আচরণ করে। এর উপর ভিত্তি করেগড়ে ওঠে তার স্বাধীন ব্যক্তিত্ব। যীশু খ্রিষ্ট, মহাত্মা গান্ধী, মাদার তেরেসা আর্চবিশপ গাঙ্গুলী এককথায় পৃথিবীর সব মহামানবেরা স্ব স্ব পৃথক মূল্যবােধের কারণেই হয়ে উঠেছেন একক ও অনন্য।

সম্পর্ক রক্ষার উপায়ঃ

ক. সমাজকে ধর্মীয় প্রতিচ্ছবি মনে করা এবং সেখানে ধর্মীয় উপস্থিতি উপলব্ধি করা।

খ. সৃষ্টিকর্তা নিজেই আমাদের পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত করেন তা মনে রেখে মন খােলা রাখা।

গ. সমাজের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধাবােধ ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্রকে স্বীকার করে তাদের গ্রহণ করা। নারীপুরুষ, ধনী-গরিব সবার প্রতি সমান মনােভাব পােষণ করা।

ঘ. সমাজের মানুষকে সব পরিস্থিতিতে সহযােগিতা করা ও তাদের প্রতি সহমর্মিতার মনােভাব প্রকাশ করা।

ঙ. সমাজকে বা সমাজের প্রতিষ্ঠানকে নিজের স্বার্থের উপায় বলে মনে না করে বরং সমাজের স্বার্থকে বড় করে দেখা।

চ. সম্পর্ক রক্ষার জন্য পরস্পরের প্রতি সহনশীল থাকা।

ছ. প্রয়ােজনে ত্যাগস্বীকার করার মনােভাব থাকা।

জ. কোন কারণে সম্পর্ক নষ্ট হলে ক্ষমা ও পুনর্মিলনের মাধ্যমে তা পুনঃস্থাপন করা।

ঝ, সম্পর্কের জন্য ন্যায্যতা একান্ত দরকার। সামাজিক সাম্য ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে সম্পর্ক রক্ষাকরা।

ঞ. সম্পর্ক রক্ষার সবচেয়ে বড় বিষয় হলাে নিজের ও অন্যের স্বাধীনতা স্বীকার করা।

ট, সম্পর্ককে জীবনের একটি মূল্যবােধ বলে মনে করা। মূল্যবােধের কারণে সম্পর্ককে লালন করা।

পরিশেষে বলা যায় যে, উপরােক্ত উপায়ে আমরা আমাদের সমাজ থেকে জগড়া ফ্যাসাদ দূর করে সমাজকে সুন্দর ও বসবাসের জন্য উপযােগি পরিবেশে রুপান্তর করতে পারি।

See More: 

৬ষ্ঠ শ্রেণি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি [১৭তম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান। Class-6 ICT Assignment

Check Also

বাংলাদেশের লােকশিল্পের বিলুপ্তির কারণ এবং লােকশিল্প সংরক্ষণের উপায়।

৮ম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। প্রিয়  ৮ম শ্রেণীর …