মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বিদায় হজের ভাষণে উদার ধর্মীয়, মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ সংস্কার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহের বর্ণনামূলক প্রতিবেদন প্রণয়ন করো।

এইচএসসি 2021 সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সপ্তম সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। আমরা ইতোমধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সপ্তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন প্রকাশ করেছি। আজকের নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। উত্তর ডাউনলোড করতে আমাদের প্রকাশিত আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

এইচএসসি 2021 ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৭ম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট উত্তর

প্রিয় এইচএসসি 2021 সালের পরীক্ষা অংশগ্রহণ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আপনাদের যাদের এইচএসসি পরীক্ষায় নির্বাচনের বিষয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি রয়েছে তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে উত্তর ডাউনলোড করে নিয়েছেন ম্যাট তৈরি করে ফেলুন। নিচের অংশে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্নের ছবি এবং তার নিচে উত্তর দেওয়া হল।

অ্যাসাইনমেন্টঃ

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বিদায় হজের ভাষণে উদার ধর্মীয়, মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ সংস্কার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহের বর্ণনামূলক প্রতিবেদন প্রণয়ন করাে।

উত্তরঃ

তারিখ :১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বরাবর,

অধ্যক্ষ

………………………..কলেজ খিলগাঁও, ঢাকা।

বিষয়:মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বিদায় হজের ভাষণে উদার ধর্মীয়, মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ সংস্কার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহের বর্ণনামূলক প্রতিবেদন।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আপনার আদেশ নং ম.উ.বি ৯১৭-৪ তারিখ :৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ অনুসারে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এর বিদায়। হজের ভাষণে উদার ধর্মীয়, মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ সংস্কার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহ ।

ক) বিদায় হজের ভাষণের পটভূমি:

মহানবি (স.)-এর জীবনসমগ্রের নির্যাস হলাে বিদায় হজের অবিস্মরণীয় ভাষণ। পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত একটি সমাজকে পুনরুদ্ধার করে ইহপারলৌকিক কল্যাণের দিকে ধাবিত করার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তার বিদায় হজের ভাষণে পরিলক্ষিত হয়। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি লক্ষাধিক মুসলমান সমভিব্যাহারে মক্কায় যাত্রা করে ৭ মার্চ সেখানে হাজির হন। মক্কাতে এটিই মহানবি (স.)-এর শেষ গমন এবং তার জীবনের শেষ হজ হওয়ার কারণে এটি ‘ হুজ্জাতুল বিদা’ বা ‘বিদায় হজ নামে অভিহিত হয়। এ হজ উপলক্ষে মহানবি (স.) জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনটি ভাষণ দিয়েছিলেন।

কিন্তু জিলহজ মাসের ৯ তারিখে (৮ মার্চ) আরাফাতের ময়দানে যে ভাষণ তিনি দিয়েছিলেন সেটিই ইতিহাসে বিদায় হজের ভাষণ’ হিসেবে খ্যাত হয়ে আছে। মহানরি (স.) জাবালুর রহমতের পাদদেশে তার উট আল-কাসওয়ার উপর থেকে এ ভাষণ প্রদান করেছিলেন। এ অভিভাষণের মধ্যে মুসলিম জনগােষ্ঠীর জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা অতি স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে বিধৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্ধকার ও অসাম্যের চিরঅবসান ঘােষণা। করে পৃথিবীর বুকে শান্তির আদর্শ এবং এক নতুন আলােকময় যুগের সূচনা করেছে।

খ.)ধর্মীয় উপদেশাবলিঃ

১.ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। এতদ্বিষয়ে সীমা লঙ্ঘনের কারণে তােমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। মনে রেখাে! তােমাদের সবাইকেই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে হবে। তাঁর কাছে এসব কথার জবাবদিহি করতে হবে।

২. তােমরা তােমাদের প্রভুর ইবাদত করবে। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথারীতি আদায় করবে, রমযানে রােযা পালন করবে, স্বেছায় ও খুশী মনে তােমাদের সম্পদের যাকাত দেবে, তােমাদের রবের ঘর বায়াতুল্লাহর হজ্জ পালন করবে আর আমীরের ইতা’আত করবে; তাহলে তােমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে।

৩.হে লােকেরা, জেনে রাখাে, আমার পরে আর কোনাে নবীর আগমন হবে না। তােমাদের পর আর কোনাে উম্মাহ নেই। আমি যা বলছি মনােযােগ দিয়ে শােনাে।

৪. চারটি বিষয় বিশেষ করে স্মরণ রেখাে! (i) কখনাে শিরক করাে না, (ii) অন্যায়ভাবে নরহত্যা করাে না, (iii) অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করাে না, (iv) কখনাে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়াে না। সাবধান, কারাে অসম্মতিতে তার সামান্য সম্পদও গ্রহণ করাে না। জুলুম করাে না। জুলুম করাে না! কোনাে মানুষের ওপর জুলুম করাে না।

৫.আমি তােমাদের কাছে যা রেখে যাচ্ছি, যত দিন তােমরা সেগুলাে আঁকড়ে ধরে রাখবে, পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হলাে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাত।

৬. হে লােকেরা! শয়তান এ ব্যাপারে নিরাশ হয়েছে, সে তােমাদের দেশে আর উপাসনা পাবে না। কিন্তু সাবধান! অনেক এমন বিষয়কে তােমরা ক্ষুদ্র বলে জ্ঞান করাে, অথচ শয়তান তারই মাধ্যমে তােমাদের সর্বনাশ করে ছাড়ে। সে বিষয়গুলাে সম্পর্কে খুবই সাবধান থাকবে।

গ)বিদায় হজের ভাষণের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে পালনীয় বিষয়াবলির পর্যালােচনা :

হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার জীবনসায়াহ্নে হজ্জ উপলক্ষে আরাফাত ময়দানে যে অভিভাষণ প্রদান করেছিলেন, ইসলাম ও মানবতার ইতিহাসে এর। গুরুত্ব অপরিসীম। এ বাণীতেই ইসলামী রাজনীতি অর্থনীতি, সমাজনীতি ও মানব অধিকারের মূলনীতি বিঘােষিত হয়েছে। এতে মানব জীবনের আধ্যাত্মিক ও বাস্তব উভয় শিক্ষাই বর্তমান রয়েছে। এ শিক্ষা মানব জাতিকে সত্যিকারের মুক্তি ও শান্তির সন্ধান দিয়েছে। মহানবী (সা.)-এর ভাষগের সকল দিক বাস্তবায়িত হলে আজকের এ সংঘাতময় মানব জীবন সর্বাত্মক সার্থক ও সুন্দর হয়ে উঠবে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) ভাষণের শুরুতে আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে বিশ্ব – প্রতিপালক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সমবেত জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে বলেন :

১. হে প্রিয় সাহাবীগণ! তােমাদের সহধর্মিণীদের ওপর তােমাদের যেমন অধিকার আছে, তােমাদের ওপরও তাদের তেমন অধিকার রয়েছে। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তােমরা তাদের গ্রহণ করেছে এবং তারই আদেশমত তাদের তােমাদের জন্য বৈধ করে নিয়েছে। সুতরাং তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে।

২. হে আমার উম্মতগণ, যারা এখানে সমবেত হয়েছ, তারা অনুপস্থিত মুসলিমদের কাছে আমার কথা পৌঁছে দেবে। যারা অনুপস্থিত তাদের আমার উপদেশের কথা জানাবে। কখনাে কখনাে উপস্থিত ব্যক্তিদের চেয়ে অনুপস্থিত ব্যক্তিরা অধিক স্মরণ রাখতে সক্ষম হয়। এখান থেকে আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি: i. নারী ও পুরুষের পারস্পরিক হক ও সম্মান অক্ষুন্ন টি রাখা। ii. কারাে প্রতি যুলুম না করা এবং কেউ খুশীমনে না দিলে তার মাল গ্রহণ না করা। নারী সমাজের প্রতি সহৃদয় ব্যবহার ও সম্মানজনক আচরণ, সর্বোপরি নারী পুরুষের সমানাধিকার প্রশ্নে সচেতন হওয়ার জন্য সবাইকে মহানবী (সা.) এ ভাষণে উপদেশ দিয়েছেন।

ঘ.)বিদায় হজের ভাষনের আর্থ সামাজিক উপদেশগুলাে জীবনে প্রতিফলনের উপায়ঃ

৯ জিলহজ, ১০ হিজরি জুমাবার আরাফার দিন। আরাফার মরুপ্রান্তরে প্রায় সােয়া লাখ জনতার সমাবেশে দ্বিপ্রহরের খানিক পরে সিক্ত ভক্তদের উদ্দীপ্ত প্রেরণা ও ধীর আগ্রহের প্রহর শেষে হজরত মুহাম্মদ (সা.) যে ভাষণ দেন, ইসলামের ইতিহাসে তা-ই ‘ হাজ্জাতুল বিদা’ বা ‘বিদায় হজ’ নামে পরিচিত।বিদায় হজের ভাষনের আর্থ সামাজিক উপদেশগুলাে জীবনে প্রতিফলনের উপায়।

১.হে আল্লাহর বান্দারা! আমি তােমাদের আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বন্দেগির ওসিয়ত করছি এবং এর নির্দেশ দিচ্ছি।
২.যদি কোনাে নাক-কান কাটা হাবশি দাসকেও তােমাদের আমির বানিয়ে দেওয়া। হয়, তবে সে যত দিন আল্লাহর কিতাব অনুসারে তােমাদের পরিচালিত করবে, তত দিন অবশ্যই তার কথা মানবে, তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে।
৩.কারাে সম্পত্তি সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয়, তবে তা অপর কারাে জন্য হালাল নয়। সুতরাং তােমরা একজন অপরজনের ওপর জুলুম করবে না। এমনিভাবে কোনাে স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর সম্পত্তির কোনাে কিছু তার সম্মতি ব্যক্তিরেকে কাউকে দেওয়া হালাল নয়।

৪.ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। প্রত্যেক আমানত তার হকদারের কাছে অবশ্যই আদায় করে দিতে হবে।

৫.যে ব্যক্তি নিজের পিতার স্থলে অপরকে পিতা বলে পরিচয় দেয়,নিজের মাওলা বা অভিভাবককে ছেড়ে দিয়ে অন্য কাউকে মাওলা বা অভিভাবক বলে পরিচয় দেয়, তার ওপর আল্লাহর লা’নত৷
৬.আমি তােমাদের কাছে দু’টো জিনিস রেখে যাচ্ছি। যত দিন তােমরা এ দু’টোকে আঁকড়ে থাকবে, তত দিন তােমরা গুমরাহ হবে না। সে দু’টো হলাে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত।
৭.তােমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে। কেননা তােমাদের পূর্ববর্তীরা দীনের ব্যাপারে এই বাড়াবাড়ির দরুন ধ্বংস হয়েছে। এই ধর্মের মর্মবাণীগুলাে বিশেষত বিদায় হজের ভাষণের বার্তা বিশ্ব মানবতার কাছে পৌছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে লাখ লাখ সাহাবি আপন বাসস্থান ত্যাগ করে ছড়িয়ে পড়েছিলেন পৃথিবীর আনাচে-কানাচে। ঘরে ঘরে আজ পেঁৗছে গেছে। ইসলামের শান্তির বাণী। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তােমরা যারা আজ এখানে উপস্থিত আছ, তােমাদের দায়িত্ব হচ্ছে যারা আজ উপস্থিত নেই তাদের কাছে আমার এই আদেশ-উপদেশগুলাে পৌছে দেওয়া।’ সমস্যায় জর্জরিত ও ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফিরে যেতে হবে সেই চৌদ্দশত বছর আগে। জীবনকে ঢেলে সাজাতে হবে বিদায় হজের ভাষণের সুমহান আদর্শে।

See More: 

এইচএসসি 2021 ইতিহাস [৭ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। HSC 2021 History Assignment Solution

এইচএসসি-2021 অর্থনীতি [৭ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। HSC Assignment Ans 2021

এইচএসসি 2021 পৌরনীতি ও সুশাসন [৭ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান। HSC-2021 এসাইনমেন্ট উত্তর

এইচএসসি 2021 যুক্তিবিদ্যা [৭ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। Assignment Answer HSC-2021

সকল পোস্টের আপডেট পেতে ‍নিচের ফেসবুক আইকনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে জয়েন করুন।

Check Also

তােমার পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টিতে যে অনুজীবগুলােকে দায়ী মনে করছ,…..

সপ্তম শ্রেণি 2022 শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্টের নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর …