বঙ্গবাণী কবিতার আলোকে মাতৃভাষার গুরুত্ব মূল্যায়ন। ১০ম শ্রেণীর {৪র্থ সপ্তাহ} বাংলা এসাইনমেন্ট উত্তর 2021

এসএসসি বা দশম শ্রেণি চতুর্থ সপ্তাহের বাংলা প্রথমপত্রের অ্যাসাইনমেন্টের নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। আপনারা যারা ইতোমধ্যে আমাদের ওয়েবসাইটের এসএসসি চতুর্থ সপ্তাহ বাংলা এসাইনমেন্টের প্রশ্নের অংশ থেকে এসেছেন। তারা এই অংশে দশম শ্রেণি চতুর্থ সপ্তাহ বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর পেয়ে যাবেন। উত্তর ডাউনলোড করার পূর্বে অবশ্যই ভালোভাবে প্রশ্ন বুঝে তারপর প্রশ্নের সিকোয়েন্স অনুযায়ী ডাউনলোড করবেন। এতে অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর লেখায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। দশম শ্রেণী বা এসএসসি 2022 সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের চতুর্থ সপ্তাহ বাংলা প্রথম পত্র অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করতে পুরো পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

দশম শ্রেণী চতুর্থ সপ্তাহ বাংলা এসাইনমেন্ট প্রশ্ন 2021

উত্তর প্রদানের পূর্বে পূর্বে পুনরায় প্রশ্নটিই প্রকাশ করা হলো। যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রশ্ন দেখে বুঝে তারপরে অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করে নিতে পারেন। দশম শ্রেণী চতুর্থ সপ্তাহ বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন নিচে দেওয়া হল।

বিষয়ঃ বাংলা প্রথম পত্র।
এসাইনমেন্টঃ
বঙ্গবাণী কবিতার আলোকে মাতৃভাষার গুরুত্ব মূল্যায়ন।
শিখনফলঃ
কবিতা পড়ে তার মূল্য বিশ্লেষণ করতে পারবে।
নির্দেশনাঃ
  1. কবি আবদুল হাকিমের মাতৃভাষা গ্রন্থ রচনার কারণ।
  2. মাতৃভাষা বিদ্বেষীদের প্রতি কবির মনোভাব।
  3. সাধারণ কথোপকথন, বইপত্র, সাইনবোর্ড, ব্যানার, সংবাদ ও গণমাধ্যম ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভাষার অপপ্রয়োগ এর বিভিন্ন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন (প্রয়োজনে পেপার কাটিং যুক্ত করা।)
  4. মাতৃ ভাষার অপপ্রয়োগ কমাতে এবং যথাযথ প্রয়োগ বাড়াতে আকবর দলগতভাবে কি ধরনের ভূমিকা রাখা যায় এ বিষয়ক একটি পরিকল্পনা তৈরি।

দশম শ্রেণীর চতুর্থ সপ্তাহ বাংলা এসাইনমেন্ট উত্তর 2021

দশম শ্রেণীর এসএসসি 2022 সালের পরীক্ষার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের চতুর্থ সপ্তাহ বাংলা অ্যাসাইনমেন্টের নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো। ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে লিখিত উত্তরের পাশাপাশি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করে নিতে পারেন। চলুন দেরী না করে দশম শ্রেণি চতুর্থ সপ্তাহ বাংলা অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর দেখে নেওয়া যাক।

উওরঃ

ক) কবি আবদুল হাকিমের মাতৃভাষা গ্রন্থ রচনার কারণঃ

কবি সাধারণ মানুষকে সাহিত্য পাঠের সুযােগ করে দেওয়ার জন্য কাব্য রচনা করেছেন। যে ভাষা সাধারণের বােধগম্য নয়, সে ভাষায় সাহিত্য রচনায় করলে তা তারা বুঝতে পারে না। ফলে তারা সাহিত্যপাঠে আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়। তৎকালীন সময়ে আরবি-ফারসি ভাষায় পুস্তক রচিত হতাে বলে তা সাধারন মানুষ বুঝতে পারত না। কবি এ সকল সাধারণ মানুষের জন্য মাতৃভাষা কাব্য রচনা করেছেন যাতে তারাও সাহিত্য পাঠ করতে পারে। বাংলাভাষী মানুষের জন্য বাংলাযগ্রন্থ রচনাই উত্তম বলে মনে করেন। সাহিত্য রচনা করে লেখক সাধারণ মানুষের সাথে নিজ নিজ মনে সংযােগ ঘটান। সাহিত্য রচনার ভাষা সাধারণের বােধগম্য না হয় তবে মনের সংযােগ সম্ভব ন্য। কবির মতে, সাধারণ মানুষের জন্য মাতৃ ভাষা রচিত কাব্য সবচেয়ে উপযােগী। এ কারণেই তিনি মাতৃভাষা তথা বাংলায় কাব্য রচনা করায় মনােনিবেশ করেছেন।

খ) মাতৃভাষা বিদ্বেষীদের প্রতি কবির মনোভাবঃ

কবি বাংলা ভাষা বিদ্বেষীদের দেশ ত্যাগ করার উপদেশ দিয়েছেন। অনেক মানুষই আছে, যারা বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে অথচ বাংলা ভাষার প্রতি তাদের কোন মমতা নেই। এদের বংশ ও জন্ম পরিচয় সম্পর্কে কবির মনে সন্দেহ জাগে। এসব মাতৃভাষা বিদ্বেষীদের প্রতি কবি প্রচণ্ড ক্ষোভ। তাই তিনি সখেদে বলেছেন, এসব মানুষের নিজ দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যা উচিত। কারণ এদের স্বদেশ এবং স্বভাষার প্রতি মমত্ববােধ নেই বলে কবি দাবি করেন। স্বদেশে থেকে যারা স্বদেশের প্রতি বীতরাগ তারা। প্রকৃতপক্ষে দেশ ও দেশের ভাষার প্রতি মমত্বহীন। তাদের এরূপ হীন মনােভাব লক্ষ্য করে ব্যথিত হয়েছেন কবি। শিকডহীন পরগাছা প্রকৃতির এসব মানুষের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করতেই তিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠে তাদের দেশ ত্যাগের উপদেশ দিয়েছেন।

গ) সাধারণ কথোপকথন, বইপত্র, সাইনবোর্ড, ব্যানার, সংবাদ ও গণমাধ্যম ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভাষার অপপ্রয়োগ এর বিভিন্ন দৃষ্টান্ত

মায়ের ভাষায় ভাব প্রকাশের অধিকার আদায় বুকের তাজা রক্ত দেওয়ার নজির কেবল বাংলাদেশেই আছে । ভাষা হিসেবেও সেই গৌরব বয়ে বেড়াতে পারছে বাংলা। এত ত্যাগ তিতিক্ষা তবুও দেশের সর্বত্র বাংলা ভাষা এখন পর্যন্ত চালু করা সম্ভব হয়নি। মাতৃভাষা ব্যবহারে দক্ষিণ কোরিয়া। অন্যদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশটির নাগরিকরা জীবনের প্রতিটি পরতে যেন পরম মমতায় অনুভব করেছেন নিজেদের মাতৃভাষাকে। সাধারন কথােপকথন: বাংলা ভাষার চরম বিকৃত হয়েছে সাধারণ কথােপকথন এর মাধ্যমে। কথায় আছে এক দেশের বুলি অন্য দেশের গালি। এক অঞ্চলের ভাষা কোন অঞ্চলের মানুষ সহজে বুঝতে পারে না। অথচ একই দেশে বসবাস করি। বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করলে দেখা যায় মাতৃভাষার বিভিন্ন রূপ। আজ বাংলা ভাষাভে হিন্দি, নেপালি, তিব্বতীয় ও ইংরেজি ভাষার সংমিশ্রণ। যার প্রভাবে আসল মাতৃভাষার শব্দগুলাে এখন বিলুপ্তির পথে।

বইপত্র: বর্তমানে বিভিন্ন উপন্যাস ও কবিতায় বিভিন্ন বিদেশি শব্দের সংমিশ্রণ দেখা যায়। এছাড়াও এসব পাঠ্যপুস্তকে বানানে ব্যাকরণ রীতি অনুসরণ করা হয় না। মানুষ বানান এথন লেখা হ্য মানুস।। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষার বানান এখন আমাদের ভাষায় প্রবেশ করেছে যা। আমাদের কাম্য নয়। বিদেশি ভাষার প্রভাবে আমাদের দেশীয় ভাষার শব্দগুলাে বইপত্রে কমই দেখা যায়।

সাইনবাের্ড: বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, মায়ের ভাষা। সেই ভাষায় আমরা সবাই কম বেশি ভুল করি। কিন্তু রাষ্ট্রীয়। কাজে এ ধরনের ভুল সম্পূর্ণ অনাকাঙিক্ষত। বানান ভুলের কারণে কুড়িল উড়ালসেতু এখন ভাজা সেতুর। । অর্থ বহন করে। দৃষ্টিনন্দন কুড়িল ফ্লাইওভারের একদিকে সাইনবাের্ডে ফ্লাইওভারের বদলে লেখা হযেছে। ফ্রাই ওভার। এর সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়তাে এই ফ্লাইওভারের ঘিরে অন্যান্য বাের্ডেও চলছে ভুল বানানের চারদিকে ছড়ানাে বিভিন্ন ফ্লাইওভারের দিক নির্দেশক সাইনবাের্ড গুলাে এমনভাবে ভুল। বানানে দাঁড়িয়েছে যা দেখে অবাক হওয়ার সঙ্গে, লজ্জাও পেতে হ্য। । চারিদিকেই ভুল বানানের ছড়াছড়ি। ২০ থেকে ৩০ গজের মধ্যে একেক বানান একেক রকম। সরণি লেখা সাইনবাের্ড সত্যি স্মরণীয় হয়ে থাকার মতাে।

ব্যানাব: ব্যানারে বাংলা ভাষার ব্যবহার দেখলে চোখ কপালে ওঠার মতন। যাঁরা ব্যানার লেখেন তারা না জানে। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রীতি না জানে ভাষার সঠিক অর্থ প্রতিদিন সকালবেলা রাস্তায় বের হলে বিভিন্ন স্থানে ঝুলিয়ে থাকে বিভিন্ন রঙের ব্যানার। এই ব্যানানের ভাষার বানান দেখলে মনে হ্য না যে এগুলাে বাংলা ভাষার শব্দ। ব্যানারের বিভিন্ন বিদেশি শব্দ পাশাপাশি বাংলা শব্দগুলাে বাংলায় লেখা হ্য। যা দেখে মনে হয় যে বিদেশি ভাষার শব্দগুলাে বাংলা ভাষার সন্তান। যাহা এইমাত্র জন্ম গ্রহণ করলাে।

সংবাদপত্র গণমাধ্যম: তবে আমাদের মাতৃভাষা নিয়ে আরেকটি সমস্যা প্রকট হযেছে। সেটা হল- বাংলা সাথে ইংরেজি মিশিয়ে। এক অদ্ভুত জগাখিচুড়ি ভাষার তৈরি। এছাড়াও ইংরেজি শব্দগুলাে এখন বাংলা শব্দ পরিণত হয়েছে। যেমন মােবাইল, ফোন ,এফএম রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি। আমাদের দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে হাতেগােনা কযেকটির নাম বাংলায় বাকিগুলাে ইংরেজিতে। | এই নামগুলাে দেখে । বােঝার উপায় নাই যে এগুলাে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়।

এছাড়াও বাংলা ভাষার অপব্যবহার বিভিন্ন সাহিত্যে, চলচ্চিত্রে , নাটকে, গানে,সংবাদপত্রে দেখা যায়। কিছু দেশীয় সংবাদপত্রগুলাে বানান রীতি অনুসরণ করলেও স্থানীয় পত্রিকাগুলাে তাদের ইচ্ছামত ভাষার শব্দ ও বানান লিখতে দেখা যায়। যা সবার কাছে বোধগম্য ন্য। এছাড়াও বাংলা ভাষার অপব্যবহার আরাে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যেমন সরকারি ও বেসরকারি অফিস আদালতে।

ঘ) মাতৃ ভাষার অপপ্রয়োগ কমাতে এবং যথাযথ প্রয়োগ বাড়াতে আকবর দলগতভাবে কি ধরনের ভূমিকা রাখা যায় এ বিষয়ক একটি পরিকল্পনা তৈরি

ভাষাকে বাঁচাতে হলে, বাসা মর্যাদা ও অধিকারকে সমন্নত রাখতে গেলে সর্বাগ্রে প্রযােজন ভাষা পরিকল্পনা। আর এর সঙ্গে অনিবার্যভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে সামাজিক- ভাষিক অবস্থিতিবােধ। ভাষার। ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষা ছাড়া জাতীয় সামূহিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত | হ্য। যে ভাষা নতুন অর্থ প্রদান করতে সক্ষম, যে ভাষা মানুষের বাসনাকে ধারণ করে, যে ভাষা নতুনজাগা ও প্রজ্ঞাকে প্রকাশ করে। চিন্তা ও যাপন কে মিলতে পারে, সে ভাষার ললন প্রাসঙ্গিক। ভাষা, জাতীয়তা এবং রাষ্ট্র কিভাবে পরস্পর অন্বিত হয়ে একটি অনিবার্য পরিণতির দিকে ধাবিত হয়। অন্যদিকে অফিস-আদালত কর্মক্ষেত্র ব্যবহারিক বাংলা ভাষার শুদ্ধ প্রযােগ নিশ্চিত করার | জন্য দরকার সরকারি আগ্রহ- উদ্যোগ। সরকারিবেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পণ্যের বিজ্ঞাপনে ভাষা প্রয়ােগের ক্ষেত্রে অসচেতনতা বা ইচ্ছে করে ভাষার অপপ্রযােগ এর প্রবণতা পরিহার করতে হবে। সর্বজনীন বাংলা ভাষার প্রযােগে আইন প্রযােগের পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষিত নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই শহীদের রক্তে অর্জিত মাতৃভাষা সবার মাঝে আজীবন লালিত হবে।

সকল পোস্টের আপডেট পেতে ‍নিচের ফেসবুক আইকনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে জয়েন করুন।

Check Also

১০ম শ্রেণি [৩য় সপ্তাহ] ভূগোল ও পরিবেশ এসাইনমেন্ট উত্তর 2022। পিডিএফ উত্তর ডাউনলোড করুন এখানে

দশম শ্রেণীর 2022 শিক্ষাবর্ষের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত ভূগোল ও পরিবেশ অ্যাসাইনমেন্ট …