বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চা, প্রয়ােজনীয়তা ও বিকাশধারা। এইচএসসি 2021 সালের সমাজবিজ্ঞান ৩য় সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

এইচএসসি 2021 সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। যে সকল শিক্ষার্থীর এখনো পর্যন্ত এইচএসসি 2021 সালের সমাজবিজ্ঞান তৃতীয় সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন উত্তর কোনটি পানি অথবা প্রশ্ন পেয়েছেন উত্তর পাননি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রশ্ন এবং উত্তর দুটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এখানে আপনি এই প্রশ্নের নং অনুযায়ী সমাজ বিজ্ঞান তৃতীয় সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর সংগ্রহ করে নিতে পারবেন৷ এইচএসসি 2021 সালের সমাজবিজ্ঞান তৃতীয় সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করতে নিচের অংশ ভালভাবে পড়ুন।

এইচএসসি তৃতীয় সপ্তাহ সমাজবিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন 2021

ছাত্র-ছাত্রীদের বোঝার সুবিধার্থে আমরা উত্তর প্রকাশের পূর্বে সমাজ বিজ্ঞান তৃতীয় সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন পুনরায় তুলে ধরেছি। যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রশ্নের নমুনা দিয়ে অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করে নিতে পারে। এতে করে আসেন মেন্টের উত্তরে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। নিচে প্রশ্ন তুলে ধরা হলো।

অ্যাসাইনমেন্টঃ

বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চা, প্রয়োজনীয়তা ও বিকাশধারা

নির্দেশনাঃ

  1. বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি লিখতে হবে।
  2. সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়ােজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
  3. বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা বর্ণনা করতে হবে।

এইচএসসি 2021 সমাজবিজ্ঞান তৃতীয় সপ্তাহ এসাইনমেন্ট উত্তর

প্রিয় এইচএসসি 2021 সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। চলুন আর বিলম্ব না করে এসেছি তৃতীয় সপ্তাহের সমাজবিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর দেখে নেয়া যাক।

উত্তরঃ

নং প্রশ্নের উওর/ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমিঃ

মানব সমাজকে বুঝতে হলে এবং সমাজ কাঠামাে অনুধাবন করতে হলে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকল্প নেই। সমাজ কাঠামাে, সামাজিক পরিবর্তনের গতিধারা, সামাজিক পরিবর্তনের কারণ, সামাজিক সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়াদি, পরিবার, রাষ্ট্র, সম্পত্তি, সামাজিক শ্রেণি, ধর্ম-বর্ণ ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিশ্লেষণে সমাজবিজ্ঞান চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থা এবং এর গতি প্রকৃতি সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নের পটভূমি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির পরিবর্তন, সামাজিক পরিবর্তন, রাজনীতির দর্শন, ঐতিহাসিক দর্শন ইত্যাদি বিষয় সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি তৈরি করেছে। মানব সমাজকে বুঝতে হলে এবং সমাজ কাঠামাে অনুধাবন করতে হলে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকল্প নেই। সমাজ কাঠামাে, সামাজিক পরিবর্তনের গতিধারা, সামাজিক পরিবর্তনের কারণ, সামাজিক সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়াদি, |

পরিবার, রাষ্ট্র, সম্পত্তি, সামাজিক শ্রেণি, ধর্ম-বর্ণ ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিশ্লেষণে | সমাজবিজ্ঞান চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থা এবং এর গতি প্রকৃতি সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়নের পটভূমি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতি, সংস্কৃতির পরিবর্তন, সামাজিক পরিবর্তন, | রাজনীতির দর্শন, ঐতিহাসিক দর্শন ইত্যাদি বিষয় সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি তৈরি করেছে। খ্রিস্টের জন্মের | পূর্ব থেকেই সমাজবিজ্ঞান চর্চার প্রমাণ ভারতীয় উপমহাদেশে রয়েছে। ভারতীয় দার্শনিক কৌটিল্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০-২৭৫ অব্দ) গভীরভাবে সমাজ কাঠামাের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসমূহ নিয়ে আলােচনা করেন। তিনি তাঁর ‘অর্থশাস্ত্র’ গ্রন্থে তৎকালীন ভারতের আইন, রাষ্ট্র, রাজনীতি, প্রাসন, অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, সমাজনীতি ও ধর্মীয় | বিধিনিষেধ সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয়সমূহ আলােচনা করেন। গ্রিক পণ্ডিত প্লেটো (খ্রিস্টপূর্ব ৪২৭-৩৪৭ অব্দ), এরিস্টটল (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২ অব্দ) প্রমুখের সমাজচিন্তা সমাজবিজ্ঞান উদ্ভবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। মধ্যযুগের বিখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ ইবনে খালদুন সমাজচিন্তার বিকাশের ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছেন। অনেকের মতে তিনিই সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃত জনক। কিন্তু ফরাসি সমাজচিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁতকে | সমাজবিজ্ঞানের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়। যেহেতু ১৮৩৯ সালে তিনিই প্রথম সমাজবিজ্ঞান শব্দটি ব্যবহার করেন।

কার্ল মার্কস উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তনের আলােকে সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের বিষয়ে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পেয়েছেন। তিনি তাঁর আলােচনায় নির্দিষ্ট একটি উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত একটি সমাজব্যবস্থাকে চিহ্নিত করেছেন। সমাজ বিকাশের ধারায় তাঁর উৎপাদন ব্যবস্থা বিষয়ক আলােচ্য স্তরগুলাে হলাে, আদিম সাম্যবাদী উৎপাদন পদ্ধতি (Primitive Communal Mode of Production); দাস উৎপাদন পদ্ধতি (The Slave Mode of Production); সামন্তবাদী উৎপাদন পদ্ধতি (The Feudal Mode of Production); পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি (The Capitalist Mode of Production), সমাজতান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতি (The Socialistic Mode of Production) এবং সাম্যবাদী উৎপাক্কন পদ্ধতি (The Communist Mode of Production)। কার্ল মার্কসের উৎপাদন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলােচ্য বিষয় হলাে এশিয় উৎপাদন ব্যবস্থা (Asian Mode of Production)। এশিয় উৎপাদন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য অন্যান্য উৎপাদন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য থেকে আলাদা। এটি মূলত এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থা যা শুধু ভারতীয় | উপমহাদেশেই লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এ উৎপাদন ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিলাে স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ সম্প্রদায় বা Self Sufficient Village Community. যুগে যুগে অনেক পর্যটক, পরিব্রাজক, যােদ্ধা, ধর্ম প্রচারক এই বঙ্গভূমিতে এসেছেন। যেমন- হিউয়েন সাং, আবুল ফজল, আলবেরুনি, ইবনে বতুতা প্রমুখ। তাঁদের লেখায় তৎকালীন বাংলার বিভিন্ন বিষয়ের বর্ণনা পাওয়া যায়। এদেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি, কৃষি, শিল্প, সমাজের বৈচিত্র্য, সমাজ কাঠামাে, পরিবার, বিবাহ, জ্ঞাতি সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তাঁরা বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁদের আলােচনায় সামাজিক প্রেক্ষাপট, সমাজকাঠামাে, সামাজিক স্তরবিন্যাস, শ্রেণি কাঠামাে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় নি, যা সমাজবিজ্ঞান চর্চায় বিশেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।

ইংরেজদের হাতে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের পর ব্রিটিশ কোম্পানির শাসন ও ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসনকালে বাংলার অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি, সমাজকাঠামাে ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় | উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চায় নতুন ধ্যান ধারণার তৈরি হয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৬ সালে সমাজবিজ্ঞান একটি আলাদা বিষয় হিসেবে পঠন-পাঠন শুরু হয়। ১৯৪৭ এর দেশভাগ, ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ সমাজবিজ্ঞান চর্চার আলাদা পটভূমি তৈরি করে।

উপরের আলােচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি খুব বেশি দিন আগে তৈরি হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তন এদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি তৈরি করেছে।

নং প্রশ্নের উওর/ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়ােজনীয়তাঃ

বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়ােজনীয়তা সামাজিক জীব হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে সমাজবিজ্ঞান আলােচনা করে। ফলে বাংলাদেশে এর পাঠের প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম। বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে জীবন-যাপন করে, তাদের আচার-আচরণ, রীতি-নীতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করার প্রয়ােজন রয়েছে। সামাজিক উন্নয়ন, সমাজ সংস্কারমূলক কার্যক্রম ইত্যাদি বিষয়ে জানার জন্য সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে। নিম্নে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়ােজনীয়তা সম্পর্কে আলােচনা করা হলাে:

১) বাংলাদেশের সমাজের শ্রেণি কাঠামাে সম্পর্কে জানা : বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণি এবং পেশার মানুষ বাস করে। এছাড়াও বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগােষ্ঠীর বসবাসও এ অঞ্চলে রয়েছে। তাই এসব মানুষের শ্রেণি, তাদের পেশা, বৃত্তি, জীবন ধারণের উপায় ইতাদি বিষয়ে জানার জন্য সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে।

(২) বাংলাদেশের সমাজ সম্পর্কে জানা : বাংলাদেশের সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের সমাজ কোন ধরনের, বাংলাদেশের সমাজের ক্রমবিকাশ, বাংলাদেশের সমাজের বিবর্তন ধারা, বাংলাদেশের সমাজের ধরণ, সমাজ পরিবর্তনের ধারা, গ্রামীণ এবং শহুরে সমাজ, সমাজে কাঠামাে, বাংলাদেশের সামাজিক স্তরবিন্যাস, বর্ণপ্রথা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান লাভের জন্য সমাজবিজ্ঞান পাঠ আবশ্যক।

(৩) বাংলাদেশের মানুষ সম্পর্কে জানা : বাংলাদেশের মানুষের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রা প্রণালী, মানুষের সংস্কৃতি, চিন্তা চেতনা, অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠান, ধর্ম, আচার আচরণ, রীতিনীতি, পরিবর্তনশীল আচারআচরণ এবং রীতিনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠ আবশ্যক।

(৪) বাংলাদেশের সমাজের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জানা : বাংলাদেশের সমাজের গতি-প্রকৃতি এবং গতিধারা সম্পর্কে জানতে, বাংলাদেশের সমাজের অতীত অবস্থান, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে সমাজবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব রয়েছে।

(৫) সামাজিক সম্পর্ক সম্বন্ধে জানা : বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক সম্পর্ক, সম্পর্কের ধরন, পুঁজিপতি এবং পুঁজিহীনের সম্পর্ক সম্বন্ধে জানতে হলে, সামাজিক সম্পর্কের প্রভাব সম্পর্কে এবং গতি প্রকৃতি জানতে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম।

(৬) বাংলাদেশের সমাজের উন্নতি বিধান : সীমিত সম্পদ দিয়ে অসীম চাহিদা পূরণ করে কিভাবে সামাজিক উন্নতি সাধন করা যায়, সমাজবিজ্ঞান সে সম্পর্কে জ্ঞান দান করে থাকে। তাই সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়ন ব্যতীত বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা, ভােগ প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা কখনও সম্ভব নয়।

(৭) সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা : বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে হলে সেগুলাে কিভাবে পরিচালিত হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ আবশ্যক। সমাজবিজ্ঞান পাঠের মধ্য দিয়েই সমাজকে সবচেয়ে ভালােভাবে জানা সম্ভব।

(৮) বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে জানা : অধিক জনসংখ্যা, ছােট্ট সীমানা, অসীম চাহিদা, সীমিত যােগান, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয় বাংলাদশের প্রধানতম আলােচনার বিষয়। সমাজবিজ্ঞান পাঠ করলে এসব সামাজিক সমস্যাবলী চিহ্নিত করার সুযােগ হয়। তাই বাংলাদেশের যেকোনাে সামাজিক সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করতে হলে এবং এগুলাের সমাধানের পথ বের করতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠ অত্যাবশ্যক।

উপযুক্ত আলােচনার সূত্র ধরে আমরা বলতে পারি যে, বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, দলগত ইত্যাদি বিষয়ে জানতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়ােজনীয়তা অনস্বীকার্য।

নং প্রশ্নের উওর/  বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশঃ

বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞান শাস্ত্রটির বিকাশ শুরু হয় ফরাসী মনীষী অগাস্ট কোঁত-এর হাত ধরে। সেইন্ট সাইমন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ১৮৩৯ সালে তিনিই প্রথম ‘Sociology’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তবে তিনি প্রথমে একে Social physics বা সামাজিক পদার্থবিদ্যা বলে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টিকে Sociology বা সমাজবিজ্ঞান নামে নামকরণ করেন।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অংশ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৪০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিলেবাসে “Elements of Sociology” I “Principles of Sociology” নামে দুটি কোর্স চালু করা হয়। এ বিষয়গুলাে পড়ানাের জন্য বিদেশের অনেক অতিথি অধ্যাপককে নিয়ে আসা হতাে। অতপর ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আলাদা বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান যাত্রা শুরু করে। ১৯৫৭-১৯৫৮ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি শুরু হয়। এর আগে ১৯৫০ সাল থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এ.কে নাজমুল করিম এবং অধ্যাপক অজিত কুমার সেন সমাজবিজ্ঞানকে একটি আলাদা বিভাগ হিসেবে চালু করার বিষয়ে কাজ শুরু করেন। একই বছর ফরাসি অধ্যাপক লেভি স্ট্রস গবেষণার কাজে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে সমাজবিজ্ঞান আলােচনার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে পান। তিনি অধ্যাপক নাজমুল করিম এবং অজিত কুমার সেন এর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলােচনা করেন। অধ্যাপক নাজমুল করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার হাত ধরেই সমাজবিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান বিকাশে অধ্যাপক নাজমুল করিমের অনেকগুলাে গ্রন্থ রয়েছে, তার মধে”-“The Changing Society of India, Pakistan and Bangladesh” গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তাঁর প্রবন্ধসমূহে সমাজতাত্ত্বিক পদ্ধতি, উন্নয়নের লক্ষ্য ও সামাজিক স্তরবিন্যাস সম্পর্কে যে মতামত প্রকাশ করেন তা বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান | বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এছাড়াও দেশি বিদেশি বিভিন্ন সেমিনার এবং | সিম্পােজিয়ামে অনেক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যা বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিকাশে গুরুত্ব বহন করে। তাঁর এ প্রবন্ধগুলাের মধ্যে চেঞ্জিং প্যাটার্নস অব এন ইস্ট পাকিস্তান ফ্যামিলি, | উইম্যান ইন দি নিউ এশিয়া, রিলিজিয়নস অ্যান্ড সােসাইটি ইন বাংলাদেশ, রিলিজিয়নস | ইন অরিয়েন্টাল সােসাইটিজ ইত্যাদি উল্লেখযােগ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালে রাজশাহী | বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা বিষয় হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে | সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান ছাড়াও উচ্চতর গবেষণা হিসেবে এম.ফিল, | পি-এইচ.ডি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়ন করা হয়। বাংলাদেশ উন্মুক্ত | বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ডিগ্রি দেওয়া হয়।

পরিশেষে, বাংলাদেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, আচার আচরণ, মূল্যবােধ, সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য, সমাজ পরিবর্তনের গতি-প্রকৃতি, সামাজিক পরিবর্তন এবং সামাজিক উন্নতি বিধানে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পেতে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশ শুরু হয়। বাংলাদেশে পরিবর্তনশীল সমাজ কাঠামাে, সামাজিক | আচরণ, মূল্যবােধ ইত্যাদি পাঠে সমাজবিজ্ঞান প্রয়ােজনীয়তা অপরিহার্য।

আরও  দেখুনঃ

এইচএসসি 2021 অর্থনীতি [৩য় সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। এইচএসসি পরীক্ষার্থী-2021 অ্যাসাইনমেন্ট

2021 এইচএসসি  ভূগোল [৩য় সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। HSC -2021 Assignment PDF উত্তর ডাউনলোড

এইচএসসি 2021 পৌরনীতি ও সুশাসন [৩য় সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। HSC পরীক্ষার্থী-2021 অ্যাসাইনমেন্ট

সকল পোস্টের আপডেট পেতে ‍নিচের ফেসবুক আইকনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে জয়েন করুন।

Check Also

প্রবাস বন্ধু রচনায় প্রতিফলিত সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয়। ১০ম শ্রেণি [৩য় সপ্তাহ] বাংলা

১০ম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। প্রিয়  ১০ম শ্রেণীর …