রাষ্ট্রের ধরন বিশ্লেষণসহ গণতন্ত্র সফল করার উপায় এবং সংসদীয় সরকারের গুন ও ত্রুটি ব্যাখ্যাকরণ।

এসএসসি 2021 সালের শিক্ষার্থীদের পৌরনীতি ও নাগরিকতা পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্নের আলোকে এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। যারা এসএসসি 2021 সালের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। আমরা ইতোমধ্যে এসএসসি 2021 সালের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর প্রকাশ করে আসছি। আজ আপনাদের জন্য পৌরনীতি ও নাগরিকতা পঞ্চম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করলাম। যা বরাবরের মতো ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যাসাইনমেন্টের সর্বোচ্চ নম্বর পেতে সহযোগিতা প্রদান করবে।

এসএস সি পৌরনীতি ও নাগরিকতা [৫ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন 2021

যেকোনো বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট লেখার পূর্বে অবশ্যই উক্ত বিষয়ে অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন ভালোভাবে বুঝে পড়ে পরবর্তীতে এসাইনমেন্ট তৈরি করা উচিত। ফলে আমরা প্রতিটি বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর প্রকাশের পাশাপাশি প্রশ্ন তুলে ধরে থাকি। যাতে করে ছাত্র-ছাত্রী অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন বুঝে পরবর্তীতে প্রশ্ন নং অনুযায়ী অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এসএসসি 2021 সালের মানবিক বিভাগের পঞ্চম সপ্তাহের পৌরনীতি ও নাগরিকতা অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন দেওয়া হল।

প্রশ্নঃ

অ্যাসাইনমেন্টঃ

রাষ্ট্রের ধরন বিশ্লেষণসহ গণতন্ত্র সফল করার উপায় এবং সংসদীয় সরকারের গুন ও ত্রুটি ব্যাখ্যাকরণ।

নির্দেশনাঃ

  1. রাষ্ট্র ও সরকারের ধারণা বর্ণনা করতে হবে।
  2. রাষ্ট্রের ধরন বিশ্লেষণ করতে হবে।
  3. গণতন্ত্রের ধারণা বর্ণনা করতে হবে।
  4. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ত্রুটি উল্লেখ করতে হবে।
  5. গণতন্ত্র সফল করার উপায় বর্ণনা করতে হবে।
  6. সংসদীয় সরকারের ধারণা বর্ণনা করতে হবে। সংসদীয় সরকারের গুন ও ত্রুটি বর্ণনা করতে হবে।

এসএসসি 2021 পৌরনীতি ও নাগরিকতা [৫ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

প্রিয় এসএসসি 2021 সালের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আমরা আমাদের এই অংশে মানবিক বিভাগের পঞ্চম সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত পৌরনীতি ও নাগরিকতা অ্যাসাইনমেন্ট এর পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রদান করেছি। আপনারা কোন রকম খরচ ছাড়াই আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পৌরনীতি ও নাগরিকতা পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করে নিতে পারেন। নিচে পৌরনীতি ও নাগরিকতা পঞ্চম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর দেওয়া হল।

উত্তরঃ

ক. রাষ্ট্রের ধরণা বিশ্লেষণঃ

রাষ্ট্রের ধারণাঃ নির্দিস্ট ভূ-খন্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌম ক্ষমতা এ চারটি উদার নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত, আর সরকার হলাে রাষ্ট্রের একটি উপাদান। রাষ্ট্রে শাসন কাজ পরিচালনার জন্য যাঁরা নিয়ােজিত থাকেন তাদের সমষ্টি হচ্ছে সরকার। রাষ্ট্রকে জাহাজের সাথে তুলনা করলে সরকারতে তার ক্যাপ্টেন বা চালকের সাথে তুলনা করা যায়। সরকারের মাধমেই রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। প্রামাণ্য সংজ্ঞাঃ গ্রীক দার্শনিক এরিষ্টটলের মতে, “রাষ্ট্র হলাে কয়েকটি পরিবার ও গ্রামের সমটিষ্ট, যার উদ্দেশ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবন।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইলসন এর ভাষায়, “মানবজাতির অংশ বিশেষকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে দেখা গেলে তাকে রাষ্ট্র বলে।” ব্রুন্টসলী বলেন, “কোন নির্দিষ্ট ভূখন্ডে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনসমাজই রাষ্ট্র।”

সরকার (Government)ঃ রাষ্ট্র গঠনের তৃতীয় অন্যতম উপাদান হল সরকার। সরকার হল আয়নার মত যাতে রাষ্ট্রের ইচ্ছা ও অনিচ্ছা প্রকাশ পায় এবং সরকারের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হয়। সরকার রাষ্ট্রের যাবতীয় শাসনকাজ পরিচালনা করে। তাছাড়া সরকার রাষ্ট্রের সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি আভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখে। সরকার মূলত তিনটি বিভাগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে থাকে। বিভাগ তিনটি হল: ১। আইন বিভাগ ২। শাসন বিভাগ ৩। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রভেদে সরকার ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যেমনঃ সংসদীয় সরকার, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ইত্যাদি।

রাষ্ট্রের ধরণ বিশ্লেষণঃ

  • * De-facto (কার্যত স্বীকৃত): আইনত স্বীকৃত না হলেও কার্যত স্বীকৃতি প্রাপ্ত রাষ্ট্র।
  • *De-jury (আইনত স্বীকৃত): আইনমত নতুন সরকার বা রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
  • *Dominion (শাসিত এলাকা): ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত উপনিবেশগুলাে যারা স্বশাসনের মর্যাদা লাভ করেছে।
  • *Hegemony (আধিপত্য): বিশেষত কতগুলি রাষ্ট্রের মধ্যে একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব, কতৃত্ব ও প্রভাব।
  • *Welfare state (কল্যাণরাষ্ট্র): যে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে স্বাস্থ্য, বীমা, পেনশন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এবং সরকার জনগণের কল্যাণে সবসময় কাজ করে।
  • *City state (নগররাষ্ট্র): যে নগর বা শহর একই সাথে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র।
  • *Buffer state (বাফার স্টেট): বিবদমান দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্র।
  • *Satellite state (স্যাটেলাইট স্টেট): প্রতিবেশী বৃহৎ এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রের রাজনীতিক বা অর্থনীতিক প্রভাবাধীন অপেক্ষাকৃত দুর্বল রাষ্ট্র।

খ. গনতন্ত্র সফল করার উপায়ঃ

গনতন্ত্রের ধারণাঃ গণতন্ত্র হল জনগণের সরকার। জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য যে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। লর্ড ব্রাইস এর মতে, “যে শাসন ব্যবস্থায় শাসন ক্ষমতা কোনাে বিশেষ শ্রেণীর হাতে ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যের হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে গণতন্ত্র বলে।” একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল মানুষের স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। আধুনিক গণতন্ত্রে জনগণের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। মতামত প্রকাশের অধিকার ভােগের মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে এবং সরকারের সমালােচনার সুযােগ থাকে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়। এতে জনগণের স্বার্থ রক্ষার সুযােগ থাকে এবং নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি দেয়া থাকে। বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র । যেমন: বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র।

গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ত্রুটি সমূহঃ

গণতন্ত্র উত্তম শাসন ব্যবস্থা হলেও এর কিছু ত্রুটি আছে। নিম্নে এগুলাে আলােচনা করা হলঃ

১. দলকানা শাসন ব্যবস্থাঃ গণতন্ত্রে ক্ষমতাশীল দল সর্বদাই নিজ দলের স্বার্থ রক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি অনেকটা অবজ্ঞা করে।

২. অজ্ঞ ও অযােগ্যদের দ্বারা শাসনকার্য পরিচালনাঃ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের মাধ্যমে শাসক মনােনয়ন করা হয়। ফলে অযােগ্য লােক নির্বাচিত হওয়ার সুযােগ পায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লেকি (Lacky) বলেন, “গণতন্ত্র, দরিদ্র, অজ্ঞ ও অযােগ্যদের শাসন।” বিজ্ঞ ও শান্তিপ্রিয় মানুষ নির্বাচনের জটিলতায় অংশ নিতে চায় না বলেই অদক্ষ মানুষ যে সুযােগ নিয়ে থাকে।

৩. যােগ্যতার চেয়ে সংখ্যার প্রাধান্যঃ গণতন্ত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে। ফলে এখানে গুণ বা যােগ্যতার চেয়ে সংখ্যার গুরুত্ব প্রাধান্য পায়। গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার নির্বাচিত হয় বিধায় মেধা ও যােগ্যতার অবমূল্যায়নের সুযােগ রয়ে যায়।

৪. ঘন ঘন সরকার পরিবর্তনঃ ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন গণতন্ত্রের অন্যতম সীমাবদ্ধতা। একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করার পর সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী গ্রহণ ও পরিকল্পনা তৈরি করে। কিন্তু ঘন ঘন সরকার পরিবর্তনের ফলে এসব পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না।

৫. আবেগ দ্বারা পরিচালিতঃ গণতন্ত্রে আবেগের প্রভাব বেশি। অনেক সময় বক্তাগণ আবেগময় বক্তৃতার মাধ্যমে জনগণকে বশ করে ফেলে। এর ফলে দূর্নীতিপরায়ণ ও অযােগ্য ব্যক্তিরাই নির্বাচিত হয়।

গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সফল করার উপায়ঃ

১. দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থাঃ এ শাসন ব্যবস্থায় সরকার জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। সরকার রাষ্ট্রের যে কোন কাজের জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকে এবং পরবর্তী নির্বাচনে জয় লাভের জন্য জনস্বার্থমূলক কাজ করে থাকে। এর ফলে দেশে দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

২. ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষাকবচঃ গণতন্ত্র নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে। গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণ মতামত প্রকাশের অধিকার ভােগ করে। ফলে ব্যক্তি স্বাধীনতার বিকাশ ঘটে। সকলে মিলে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। এতে নাগরিকের অধিকার রক্ষা হয়।

৩. সমানাধিকারঃ গণতন্ত্রে সবাই সমান। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সবাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার ভােগ করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রত্যেক ক্ষেত্রে সবার অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করে।

৪. সরকারের স্থায়ীত্ব বৃদ্ধিঃ জনগণের আস্থা যত দিন থাকে সরকার তত দিন স্থায়ী হয়। তাই জনসমর্থন লাভের আশায় দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকার পরিচালনা করতে স্বচেষ্ট হয়। এতে সরকারের সুনাম ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

৫. নাগরিক মর্যাদা বৃদ্ধিঃ রাষ্ট্র পরিচালনার ভার থাকে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের হাতে। অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির অন্যতম হাতিয়ার হল নির্বাচন। এটি জনগণকে রাষ্ট্রীয় কাজে অংশ গ্রহণের সুযােগ করে দেয়। ফলে নাগরিকদের সংস্কৃতি উন্নত হয় এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে এবং নাগরিকের সম্মান বেড়ে যায়।

৬. বিপ্লবের সম্ভাবনা হ্রাসঃ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনশীল। সুনির্দিষ্ট সময় পরপর সরকার পরিবর্তন হওয়ার সুযােগ থাকায় বিপ্লবে সম্ভাবনা কম থাকে।

৭. রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমঃ গণতন্ত্র সকলকে রাজনৈতিক চর্চার সমান সুযােগ দেয়। ফলে সকলেই রাজনীতি চর্চা ও রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা লাভ করে। তাই জে.এস. মিল বলেন, “গণতন্ত্র উত্তম শাসন ব্যবস্থার শিক্ষা দান করে।”

গ. সংসদীয় সরকারের গুণ ও ত্রুটিঃ

সরকার সংসদীয় (Parliamentary form of Government)ঃ সংসদীয় সরকারের অপর নাম মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার। সংসদীয় সরকার হল এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যেখানে সরকারের সকল ক্ষমতা মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত থাকে। নির্বাহী বিভাগ তার কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকে। এক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে সংসদের নিকট জবাবদিহি করেন। সাধারণ নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং দলের একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়ােগ প্রদান করেন। এ সরকার ব্যবস্থায় একজন নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন যিনি প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। পার্লামেন্ট বা আইনসভার মধ্য থেকে মন্ত্রীদের নিয়ােগ করা হয় বলে একে পার্লামেন্টারি বা সংসদীয় সরকার বলা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য প্রভৃতি দেশে সংসদীয় সরকার প্রচলিত আছে।

সংসদীয় সরকারের গুণাবলিঃ

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা হল একটি জনপ্রিয় সরকার ব্যবস্থা। নিম্নে এর গুণাবলি বর্ণিত হল

১. আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় এ ধরনের সরকার ব্যবস্থায় আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালিত হয়। শাসন ও আইন বিভাগের মধ্যে সৌহার্দ্যমূলক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকে। কারণ শাসন বিভাগের সদস্যগণ আইন সভার সদস্য হন।

২. দায়িত্বশীল সরকার ব্যবস্থা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সরকারের মন্ত্রীগণ একক ও যৌথভাবে আইনসভা অর্থাৎ সংসদের নিকট দায়ী থাকেন বলে একে দায়িত্বশীল সরকার ব্যবস্থা বলে। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় আইনসভার সদস্যগণ জনগণের নিকট দায়ী থাকেন।

৩, বিরােধীদলের গুরুত্ব সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় বিরােধী দল হল কার্যকর সংসদ গঠনের পূর্বশর্ত। বিরােধী দলকে ছায়া সরকারও বলা হয়। বিরােধী দলের অস্তিত্ব মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের জন্য অপরিহার্য। বিরােধী দল সরকারের দোষ-ক্রটি জনগণের সামনে তুলে ধরে। তাছাড়া জাতীয় সংকটে অথবা যে কোন অবস্থায় ক্ষমতাসীন ও বিরােধী দল পারস্পরিক আলােচনার মাধ্যমে যে কোন সমস্যার সমাধান করতে পারে।

৪.নমনীয়তাঃসংসদীয় সরকার নমনীয় প্রকৃতির। এখানে সংসদ জনগণের প্রয়ােজনে ও দেশের স্বার্থে যে কোন সময় সহজেই সংবিধান সংশােধন করতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের ভােটের প্রয়ােজন পড়ে। তাছাড়া জনসাধারণ প্রয়ােজনে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন করতে পারে।

৫. রাজনৈতিক শিক্ষার বিস্তারঃ

সংসদীয় সরকার জনমত দ্বারা পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা। সরকারি ও বিরােধী দল জনমতকে তাদের অনুকুলে রাখার জন্য সবসময় তৎপর থাকে। তাছাড়া সরকারের কাঠামাে ও নীতিমালা এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম নিয়ে সংসদে বিতর্ক হয়। এতে করে জনসাধারণ তাদের করণীয় ঠিক করে নিতে পারে। ফলশ্রুতিতে জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

৬.একাধিক রাজনৈতিক দলের অবস্থানঃ সংসদীয় সরকার মূলত দলীয় সরকার। এতে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই সরকার গঠন করে। আর যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না তারা বিরােধী দলের ভূমিকা পালন করে। এভাবে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় একাধিক দলের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।

৭.ঐতিহ্য রক্ষাঃ সংদীয় সরকার দেশের শাসনতান্ত্রিক ঐতিহ্য রক্ষা করতে পারে। যেমন- ইংল্যান্ডের নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র । সংসদীয় সরকারের ত্রুটিঃ বর্তমান সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা খুব জনপ্রিয়। কিন্তু এ সরকারের কিছু ত্রুটি রয়েছে। সংসদীয় ব্যাবস্থায় একই ব্যক্তি শাসন ও আইন বিভাগের দায়িত্বে থাকে ফলে ক্ষমতা পৃথকীকরণ নীতি কার্যকর সম্ভব হয় না। সকল ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়। সংসদ নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার সরকারের অস্থিতিশীলতা থাকে না। তাছাড়া সংখ্যাগরিষ্ট দল সরকার গঠন করে বলে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য দেয়া হয় এবং দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।

আরও দেখুনঃ

এসএসসি 2021 বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা [৫ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। SSC পরীক্ষার্থী -2021

এসএসসি 2021 ভূগোল ও পরিবেশ [৫ম সপ্তাহ] অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর। PDF Answer Download

Check Also

১০ম শ্রেণি [৩য় সপ্তাহ] ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট উত্তর 2022। পিডিএফ উত্তর ডাউনলোড করুন এখানে

আজ দশম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ব্যবসা উদ্যোগ অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন …