৬ষ্ঠ শ্রেণি [৯ম-সপ্তাহ] বাংলা এসাইনমেন্ট উত্তর 2021। পিডিএফ উত্তর ডাউনলোড

ষষ্ঠ শ্রেণি নবম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের জন্য বাংলা বিষয় নির্ধারণ করে এর প্রশ্ন প্রকাশ করা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির নবম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর জন্য দুটি বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি হলো বাংলা এবং অপরটি বিজ্ঞান। আমরা আজকে ষষ্ঠ শ্রেণির নবম সপ্তাহের বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন এবং উত্তর তুলে ধরেছি। যার প্রশ্ন বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট dshe.gov.bd থেকে সংগ্রহ করেছি। ষষ্ঠ শ্রেণির অষ্টম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নবম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন প্রকাশ করা হয়েছে। যা ষষ্ঠ শ্রেণি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নবম সপ্তাহের মধ্যে এর উত্তর সম্পন্ন করে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে জমা প্রদান করতে হবে।

আপনি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির নবম শব্দের বাংলা এসাইনমেন্ট এর ব্যাখ্যা সহ প্রশ্ন এবং এর সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ উত্তর ডাউনলোড করে নিতে পারেন। যা আপনাদের এসাইনমেন্টে পূর্ণ নম্বর পেতে সহযোগিতা করবে। ষষ্ঠ শ্রেণির নবম সপ্তাহের বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন এবং উত্তর ডাউনলোড করতে পরবর্তী শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

আরও দেখুনঃ

৬ষ্ঠ শ্রেণি ৯ম-সপ্তাহ বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট উত্তর 2021। পিডিএফ উত্তর ডাউনলোড

ষষ্ঠ শ্রেণী অ্যাসাইনমেন্ট 2021

৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের কথা বিবেচনা করে এ বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা প্রদান করে আসছে। যেহেতু করণা মহামারীর কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের সরাসরি বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা প্রদান করা অথবা পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এসাইনমেন্ট কার্যক্রম একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শুরু থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণীর সকল বিষয়ের এসাইনমেন্ট এর সঠিক এবং নির্ভুল উত্তর প্রদান করে আসছি। সবার আগে সর্বপ্রথম ষষ্ঠ শ্রেণির সকল সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন এবং উত্তর পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

৬ষ্ঠ শ্রেণির সকল বিষয় অ্যাসাইনমেন্ট 2021

যেহেতু ষষ্ঠ শ্রেণীর প্রথম থেকে অষ্টম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট এর কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ প্রত্যেক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে অবগত আছেন যে প্রতি সপ্তাহে একটি করে বিষয়ে করে ষষ্ঠ শ্রেণির সকল সপ্তাহের বিষয়ের উপর অ্যাসাইনমেন্ট প্রদান করে আসছে। আমরা বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির সকল সপ্তাহের সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন সংগ্রহ করে এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ সমাধান প্রকাশ করে আসছি। সুতরাং আপনি চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির যেকোন বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ইতোমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর নির্মল বিদ্যালয় জমা প্রদানের জন্য নোটিশ প্রদান করেছে। তাই যারা এখনো পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণীর সপ্তম ও অষ্টম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সম্পন্ন করেননি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর সপ্তম ও অষ্টম সপ্তাহের সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা এসাইনমেন্ট প্রশ্ন 2021

ষষ্ঠ শ্রেণি বাংলা বিষয়ের উপর ইতিমধ্যে দুইটি অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের ওপর অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন প্রকাশ করা হলো। যা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নবম সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করে নিজ নিজ বিদ্যালয় জমা প্রদান করতে হবে। যারা এখনো পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির নবম সপ্তাহের বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ধারিত প্রশ্ন বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল থেকে ডাউনলোড করতে সক্ষম হননি। তাদের জন্য আমরা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির নবম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন সংগ্রহ করে ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ করেছি।

যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রশ্ন ভালোভাবে বুঝে নিজে নিজে অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর লিখতে পারে। ষষ্ঠ শ্রেণির নবম সপ্তাহের জন্য বাংলা প্রথম পত্র চেক এসাইনমেন্ট এর কাজ দেওয়া হয়েছে। আমরা শুরুতে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা একশন মেন্টের প্রশ্ন এবং পরে এর উত্তর প্রদান করেছি। ষষ্ঠ শ্রেণির নবম সপ্তাহের বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন নিচে দেওয়া হল।

অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজঃ

নিজের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অথবা কারো কাছ থেকে শোনা একটি ভ্রমণ কাহিনীর বর্ণনা দিয়ে 150 শব্দের একটি নিবন্ধ রচনা করো।

অধ্যায় ও অধ্যায়ের শিরোনামঃ

নীলনদ আর পিরামিডের দেশ।

পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত পাঠ নম্বর ও বিষয়বস্তুঃ

নীলনদ আর পিরামিডের দেশ ভ্রমণ কাহিনী।

ষষ্ঠ শ্রেণি [৯ম সপ্তাহ] বাংলা এসাইনমেন্ট উত্তর 2021

প্রিয় ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। তোমরা চাইলে কোনো রকম খরচ ছাড়াই আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি নবম সপ্তাহের বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ সমাধান ডাউনলোড করে নিতে পারো। আমাদের প্রকাশিত অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ডাউনলোড করে করে হুবহু অ্যাসাইনমেন্ট খাতায় তুলে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে জমা প্রদান করবে। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অ্যাসাইনমেন্ট ছাত্র-ছাত্রীদের পূর্ণ নম্বর পেতে সহযোগিতা করে। কারণ আমরা ষষ্ঠ শ্রেণির প্রত্যেকটি অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর ষষ্ঠ শ্রেণির বোর্ড বই থেকে সংগ্রহ করে থাকি। যা বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। ষষ্ঠ শ্রেণির নবম সপ্তাহের বাংলা এসাইনমেন্ট এর উত্তর ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

উত্তরঃ

আমার ভ্রমন কাহিনী

ভূমিকাঃ

বর্তমান যুগের ব্যস্ততা সর্বস্ব জীবনের ইঁদুর দৌড়ে আমাদের শরীর ও মন যখন রােজকার একই পরিবেশের ক্লান্তি এবং একঘেয়েমিতে ভরে ওঠে, তখন নিত্যদিনের সেই চেনা চারপাশ থেকে আমাদের মন একটুখানি মুক্তির আনন্দের জন্য ছটফট করে। সেই সময় মনকে কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম দিতে এবং নিজের ক্লান্তি ও একঘেয়েমি দূর করে জীবনের পরবর্তী ব্যস্ততার জন্য তৈরি হতে প্রয়ােজন ভ্রমণের।ভ্রমণ আমাদের বর্তমান জীবনের এমন একটি অংশ যাকে অস্বীকার করে কোনােভাবেই ভালাে থাকা যায় । ভ্রমণ আমাদের ক্লান্তি ও গ্লানিতে ভরে ওঠা মনকে পুনরায় কোন এক জাদুকাঠির ছোঁয়ায় সতেজ করে তােলে। আমি আদ্যোপান্ত একজন ভ্রমণপিপাসু বাঙালি। প্রত্যেক বছর কোথাও-নাকোথাও ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুদিনের মুক্তি খুঁজে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমি ছুটে যাই। তেমনই আমার এই বছরের ভ্রমণ গন্তব্য মােহময়ী সুন্দরবন।

জীবনে ভ্রমণের তাৎপর্যঃ

জীবনে ভ্রমণের তাৎপর্য বলে শেষ করার মতন নয়। ভ্রমণ আমাদের শরীর তথা মন উভয়কে বিশেষভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। ভ্রমনের ফলে একদিকে আমাদের মন যেমন জীবনের ক্লান্তি ও গ্লানি দূর করে সতেজ হয়ে উঠে, অন্যদিকে আমাদের শরীরও সকল জড়তা কাটিয়ে সতেজতায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এমনকি বিভিন্ন রােগ মুক্তির ক্ষেত্রেও ভ্রমণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।সে কারণেই প্রাচীন যুগ থেকে এখনাে পর্যন্ত চিকিৎসকেরা বহু রােগ থেকে সেরে ওঠে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পূর্বে ভ্রমণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া ভ্রমণ মানুষকে চিন্তাশীল হতে শেখায়। শেখায় জীবনের প্রতিকূল অবস্থার সাথে যুঝে নিতে। প্রাচীনকালে রাজারা রাজ্য চালনার ক্ষেত্রে কোন বিশেষ প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হলে মৃগয়ায় যেতেন। এই মৃগয়াতে শিকার অপেক্ষা ভ্রমণের গুরুত্বই বেশি থাকত।

স্থান নির্বাচনঃ

যথাযথ স্থান নির্বাচন একটি সুন্দর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লাভের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভ্রমণের স্থান নির্ভর করে ভ্রমণকারীর মানসিক অবস্থা, শারীরিক সক্ষমতা, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক স্বচ্ছলতা ইত্যাদি বিষয়ের উপর। আমি সাধারণতঃ চিরাচরিত জীবন থেকে ছুটি নিয়ে প্রকৃতির বুকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ছুটে যেতেই ভালােবাসি। পাহাড়, নদী, সমুদ্র ও জঙ্গল এই সবই আমার অত্যন্ত পছন্দের বিষয়।তবে সপরিবারে যাওয়ার হলে বিশেষ চিন্তাভাবনা করে ভ্রমণের স্থান নির্বাচন করতে হয়। এইবার আমার বাড়ির অত্যন্ত কাছে অবস্থিত সুন্দরবনকে ভ্রমণের স্থান হিসেবে আমি বেছে নিয়েছিলাম। এই সুন্দরবন একই সাথে নদী, মােহনা এবং জঙ্গলের এক অপূর্ব সমাহার। তাই কাছাকাছির মধ্যে প্রকৃতির কোলে কয়েকটি দিন কাটানাের জন্য সুন্দরবনের থেকে বেশি উপযুক্ত জায়গা আর কিইবা হতে পারে।

গন্তব্য যাত্রাপথঃ

আমাদের গন্তব্য সুন্দরবনের যাত্রা শুরু হয় শিয়ালদা স্টেশন থেকে। এইখান থেকে লােকাল ট্রেনে চেপে ক্যানিং স্টেশন হয়ে বাস কিংবা অটোতে আমরা পৌছে গেছিলাম সােনাখালি লঞ্চঘাট। সেখান থেকে লঞ্চে করে সুন্দরবনের বুকে একটু একটু করে আমাদের প্রবেশ শুরু। লঞ্চে ওঠারবেশ খানিকটা যাওয়ার পর দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের নাম-না-জানা গাছ, পাখিদের মিষ্টি আওয়াজ নদীর দুপাশ থেকে কানে ভেসে আসে। লঞ্চ থেকে জলের দিকে চোখ পড়তেই দেখতে পেলাম বিখ্যাত গাঙ্গেয় ডলফিন বা চলতি ভাষায় যাকে বলা হয় শুশুক। তারপর লঞ্চ থেকে যখন নামলাম তখন সূর্য প্রায় পশ্চিম গগনে ঢলে পড়ার মুখে। শীতের দিন বলে একটু শীত শীত করতে লাগলাে।

উদ্ভিদজগতের অপরুপ বাহারঃ

সুন্দরবন প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর। আমাদের যে গাইড তার কাছ থেকেই জানতে পারলাম ভারতবাংলাদেশ এই দুই দেশ জুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবনে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে অধিকাংশই ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ। পৌঁছনাের পরেরদিন জঙ্গল সাফারিতে বেরিয়ে দেখতে পেলাম ঘন বনের ফাক দিয়ে সূর্যের আলাে এসে পড়েছে মাটিতে।বিভিন্ন নাম না জানা গাছ, পাখিদের আওয়াজ আর অদ্ভুত এক মায়াবী নিস্তব্ধতা সমগ্র প্রকৃতিকে যেন ঘিরে রেখেছে। এরইমধ্যে শ্বাসমূল আর ঠেস মূল যুক্ত গাছগুলি পরিবেশকে আরাে মায়াবী করে তুলেছে। পথে চলতে চলতে চোখে পড়ল বিভিন্ন ধরনের অত্যন্ত সুন্দর সুন্দর সব ফুল আর লতা গুল্ম। গাইডের থেকে শুনলাম এই জঙ্গলে বহু ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ পাওয়া যায়। সবচেয়ে মনমুগ্ধকর গাছ গুলির মধ্যে চোখে পড়ল বিখ্যাত সুন্দরী, গরান ও গেওয়া গাছ।

সুন্দরবনের প্রাণীকুলঃ

সুন্দরবনের জঙ্গলের আরেকটি সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ হলাে এখানকার প্রাণীকুল। সুন্দরবনের স্থলভাগ বিভিন্ন ধরনের প্রাণীদের স্বর্গরাজ্য। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য হলাে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। যদিও বর্তমানে বাঘের সংখ্যা উল্লেখযােগ্যভাবে কমে যাওয়ার দরুন সহজে বাঘ চোখে পড়ে না।জঙ্গল সাফারির প্রথম দিনে আমরাও বাঘ দেখতে পাইনি। তবে চোখে যা পড়েছিল তা কোনাে অংশে কম নয়। দূর থেকে আমরা দেখেছিলাম সুন্দরবনের বিখ্যাত চিত্রা হরিণের পাল জল খেতে এসেছে নদীর ধারে গাছের ডাল থেকে উড়ে যাচ্ছে অদ্ভুত সুন্দর রঙের পাখিরা।আমাদের গাইডের সাহায্যে গাছের উপরে দেখতে পেলাম অদ্ভুত সুন্দর গিরগিটি। এছাড়া চোখে পড়ল গােসাপ, বন বিড়াল আরাে কত কি। চলতে চলতে লােকমুখে জানতে পারলাম সুন্দরবনের জঙ্গলে। অত্যন্ত সুদর্শন কিন্তু ভয়ংকর বিষাক্ত বহু সাপ রয়েছে। তাদের থেকে সাবধান থাকার জন্য ভ্রমণের সময় সঙ্গে গাইড এবং কার্বলিক অ্যাসিড রাখা বাধ্যতামূলক।

জলপথে ভ্রমণঃ

জঙ্গল সাফারির পরের দিন শুরু হলাে সুন্দরবনের জলপথে আমাদের রােমাঞ্চকর ভ্রমণ। সুন্দরবনের জলপথ অন্যান্য জায়গা থেকে একেবারে অন্যরকম। কাছাকাছি মােহনা থাকার কারণে এখানকার জলভাগের প্রাণীবৈচিত্র্যও অন্যান্য জায়গা থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক আলাদা।বড় একটি লঞ্চে চেপে আমরা সেইদিন রওনা হলাম সুন্দরবনের আরাে ভেতরে। সাথে সাথে নদীর দু’পাশের অরণ্যও ঘন হয়ে উঠতে থাকলাে। লঞ্চ থেকে নদীর দিকে তাকাতে আবারও চোখে পড়লে শুশুক, তাছাড়া দেখা গেল বিভিন্ন ধরনের মাছ, বক, মাছরাঙ্গা পাখি ইত্যাদি। ইতিমধ্যে কয়েকবার কয়েকটি কচ্ছপও চোখে পড়ল।

ট্রিহাউজে একটি দিনঃ

জলপথে ভ্রমণের পরের দিন আমাদের গাছের ঘর বা ট্রি-হাউসে থাকার একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হল। জঙ্গলের বেশ খানিকটা ভিতরে একটি বড় গাছের ওপর সুন্দর ছােট ছিমছাম একটি ট্রি-হাউজ সেইখানেই আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। দিনের বেলা সেই ঘর থেকে আশেপাশের জঙ্গল দেখা যায়।এছাড়া চোখে পড়ে বহু পাখিদের আনাগােনা, কানে আসে তাদের কলতান। নিচ থেকে একটি অস্থায়ী কাঠের সিঁড়ি দিয়ে ট্রি-হাউসে উঠতে হয়। বিকেলের পর গাছের উপর থেকে নিচে নামা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

রসনা তৃপ্তিঃ

বাঙালি একদিকে যেমন ভ্রমণপিপাসু, আরেকদিকে তেমন খাদ্যরসিকও বটে। তাই ভ্রমণে গিয়ে স্থানীয় রসনার স্বাদ না নিলে সেই ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই উদ্দেশ্যেই সুন্দরবনের বিভিন্ন খাবার চেখে দেখতে গিয়ে অভিভূত হয়ে পড়লাম।এখানকার স্থানীয়দের মাটির হাঁড়িতে রান্না করা বন মােরগের মাংসের ঝােলের স্বাদ কোনদিন ভুলতে পারবােনা। তাছাড়া জলবিহারের দিন লঞ্চের রান্না হওয়া কঁকড়ার ঝােলও ছিল অনবদ্য। এছাড়া এখানকার বন থেকে সংগ্রহ করা খাটি মধুর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। বাকি দিনগুলিতে বিভিন্ন ধরনের টাটকা সুস্বাদু মাছ আমাদের রসনা তৃপ্তি ঘটিয়েছিল।

উপসংহারঃ

এইভাবে কয়েকটি দিন সুন্দরবনে প্রকৃতির কোলে কাটিয়ে আমরা পুনরায় নিজেদের জীবনে ফিরে এলাম। ফিরে আসার জন্য আমরা বেছে নিয়েছিলাম জলপথকে। অর্থাৎ সুন্দরবন থেকে সরাসরি লঞ্চে করে পুনরায় শহরে ফিরে আসা। সেই অভিজ্ঞতাও অদ্ভুত সুন্দর ছিল।

সকল পোস্টের আপডেট পেতে ‍নিচের ফেসবুক আইকনে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেইজে জয়েন করুন।

Check Also

প্রবাস বন্ধু রচনায় প্রতিফলিত সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয়। ১০ম শ্রেণি [৩য় সপ্তাহ] বাংলা

১০ম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট এর নির্ভুল এবং পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রকাশ করা হলো। প্রিয়  ১০ম শ্রেণীর …